করোনাভাইরাস ইস্যুতে এবার চীনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে জার্মানি। ওই ভাইরাসের উৎস নিয়ে চীনকে যথাসম্ভব স্বচ্ছ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মের্কেল। ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার দেওয়া তার বক্তব্য নিশ্চিতভাবে চীনকে আরো চাপে ফেললো।
করোনাভাইরাস নিয়ে শুরু থেকেই চীনের বিরুদ্ধে ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়া কিংবা তথ্য গোপনসহ বিভিন্ন অভিযোগ করে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে চীনঘেষা আখ্যা দিয়ে ওই সংস্থার তহবিল বন্ধের উদ্যোগও নিয়েছেন। তার দাবি, চীনে প্রকোপ শুরু হওয়ার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তা গুরুতরভাবে নেয়নি এবং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চেয়েছিল। ট্রাম্পের সুরে সুর মিলিয়ে চীন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি তুলেছে অস্ট্রেলিয়াও। এবার সেই ধারাবাহিকতায় জার্মানি চীনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলো।
উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া মহামারির শুরুর দিনগুলো সম্পর্কে মের্কেল চীনকে আরও তথ্য দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। সোমবার বার্লিনে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি ভাইরাসের উৎস নিয়ে চীন যত বেশি স্বচ্ছ হবে, ততই প্রত্যেকের জন্য ভালো হবে। বিশ্বের প্রত্যেকে এ থেকে শিক্ষা নিতে পারবে।’
চীনা বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসটি সবার প্রথমে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয় উহানের একটি মাছের বাজার থেকে। কিন্তু অপ্রমাণিত কিছু তত্ত্ব মার্কিন কর্মকর্তারা উত্থাপন করেছে। তাদের ধারণা, সর্বাধিক সুরক্ষিত ভাইরোলজি ল্যাব থেকে ভাইরাসটি এসেছে। সেক্রেটারি অব স্টেট মাইক পম্বেও বলেছেন, ভাইরাস কীভাবে বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে তার তদন্ত চলছে। অবশ্য উহানের ভাইরোলজি ল্যাব তাদের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ‘এটা অসম্ভব।’
ভাইরাসটির উৎপত্তি ও মোকাবিলায় চীনের কৌশল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি প্রশ্ন তুলেছে আরো অনেক দেশ। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুল ম্যাক্রন গত সপ্তাহে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছিলেন, চীন মহামারিটি খুব ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে তা ভাবা হবে নির্বোধের কাজ। ব্রিটেনের পররাষ্ট্র সবিচ ডমিনিক র্যাবও চীনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভাইরাসটি ছড়ানো নিয়ে চীনকে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে।








