পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ পাপুয়ার স্বাধীনতার দাবিতে এক বিক্ষোভ আয়োজন করায় ছয় অ্যাক্টিভিস্টকে কারাদণ্ড দিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার একটি আদালত। শুক্রবার দণ্ড ঘোষণা করে বিচারক জানান তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তবে মানবাধিকার গ্রুপগুলো এই কারাদণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।
প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ পাপুয়া এক সময় ডাচ কলোনি ছিল। ১৯৬৯ সালে জাতিসংঘ সমর্থিত এক বিতর্কিত গণভোটে ইন্দোনেশিয়ার অন্তর্ভুক্ত হয় এটি। তবে গত কয়েক দশক ধরেই সেখানে স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন চলছে।
পাপুয়া প্রদেশে বেশ কিছু দিন টানা অস্থিরতার পর গত বছরের ২৮ আগস্টে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও সেনা সদর দফতরের বাইরে বিক্ষোভ করে প্রায় একশো মানুষ। তবে শুক্রবার ছয় অ্যাক্টিভিস্টকে রাষ্ট্রদোহে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। এদের মধ্যে অ্যামব্রোসিয়াস মুলাইত, সুরিয়া আন্তা, চার্লস কোসে, দানো তাবুনি এবং এরিনা এলোপেরেকে নয় মাসের এবং ইসায় ওয়েন্দাকে আট মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা গত বছরের আগস্ট থেকেই বন্দি রয়েছেন। প্রসিকিউটররা গত ডিসেম্বরে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
ছয় অ্যাক্টিভিস্টের কারাদণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গ্রুপ অ্যামিনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। এই গ্রুপগুলোর দাবি অ্যাক্টিভিস্টরা নৃতাত্ত্বিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ আয়োজনে অংশ নিয়েছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইন্দোনেশিয়ার পরিচালক উসমান হামিদ বলেন, ‘আজ যে ছয় জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া, মত প্রকাশের স্বাধীনতর চর্চা এবং সমবেত হওয়ার অধিকারের প্রয়োগ ছাড়া আর কিছুই করেননি।’
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অ্যাকটিভিস্টদের আইনজীবী ওকি উইরাতমা শনিবার বলেছেন, বিচার যথোপযুক্ত হয়নি। ওই অ্যাক্টিভিস্টরা বর্ণবাদের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেছেন। ইতোমধ্যেই কারাগারে বেশ কিছুদিন কাটিয়ে ফেলায় আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তারা মুক্তি পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।








