করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে আফগানিস্তানে ৭৩ লাখ শিশু অনাহারের ঝুঁকিতে রয়েছে। শিশু বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, খাবারের দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেন-এর মুখপাত্র সতর্ক করে বলেছেন, আশু পদক্ষেপ না নিলে দেশটিতে ক্ষুধা, রোগ এবং মৃত্যুর ঝড় বয়ে যাবে।
২০০১ সালে তালেবানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র অভিযান শুরুর পর প্রায় দুই দশকের যুদ্ধে আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর মার্চ মাসের শেষদিক থেকে রাজধানী কাবুল লকডাউন করেছে আফগান সরকার। পরে অন্য প্রদেশগুলোও লকডাউন করা হয়। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া এবং ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়।
আফগানিস্তানে মহামারী শুরুর আগেও ৫০ লাখেরও বেশি শিশুর বিভিন্ন ধরনের মানবিক সহায়তার প্রয়োজন ছিল। সম্প্রতি জাতিসংঘ পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ২০ লাখ আফগান শিশু প্রবল খাদ্যাভাবে রয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে এই সংকট আরও জোরালো হয়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেন বলছে, ভাইরাস মোকাবিলায় দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে শিশুদের যখন প্রতিদিনই পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবারের প্রয়োজন ঠিক সে সময়েই খাবারের দাম বাড়ছে।
সংস্থাটি বলছে, আফগানিস্তানের জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ খাদ্যাভাবে পড়তে চলেছে, যার মধ্যে ৭৩ লাখই শিশু। বিবিসি জানিয়েছে, সম্প্রতি জাতিসংঘ দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে থাকা দেশের তালিকায় আফগানিস্তানের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে। বিশ্ব ‘ক্ষুধা মহামারী’র মুখে আছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।
যোগানের তুলনায় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় গতমাসে আফগানিস্তানের প্রধান নগরীগুলোর বাজারে গমের আটা এবং রান্নার তেলের দাম বেড়েছে ২৩ শতাংশ। আর চাল, চিনি ও ডালের দাম বেড়েছে ৭ থেকে ১২ শতাংশ। খাবারের দাম বাড়ার পাশাপাশি লকডাউনের কারণে কাজ না থাকায় কমছে দিনমজুরদের আয়। আফগান কর্মীদের বেশির ভাগই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করে। তাদের কোনো আর্থিক সুরক্ষা নেই।
আফগানিস্তানে সেভ দ্য চিলড্রেনের পরিচালক টিমোথি বিশপ বলেন, “আফগানদের জন্য করোনাভাইরাস মহামারীর চেয়েও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্ষুধা। লকডাউনের কারণে সৃষ্ট সংকটে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বিশ্ব এখনই পদক্ষেপ না নিলে এখানে ক্ষুধা, রোগ আর মৃত্যুর ঝড় বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আমরা উদ্বিগ্ন।”








