ভারতের মহারাষ্ট্রের আওরঙ্গাবাদ জেলায় মালবাহী ট্রেনের নিচে চাপা পড়ে কমপক্ষে ১৫ জন অভিবাসী শ্রমিক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৮ মে) ভোরে রেললাইনে ঘুমন্ত অবস্থায় চাপা পড়েন তারা। পুলিশের ধারণা, লকডাউনের কারণে ট্রেন চলছে না ভেবে রেললাইনে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন শ্রমিকরা। ওই ঘটনায় প্রাণে বেঁচে গেছেন পাঁচ শ্রমিক। তাদের একজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অপর চারজন ট্রমায় ভুগছেন। তাদের কাউন্সেলিং করছে পুলিশ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে এনডিটিভি জানিয়েছে, লকডাউনে দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর ওই শ্রমিকরা রেল লাইন ধরে হেঁটে মধ্যপ্রদেশে তাদের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ওই যাত্রীরা রেললাইন ধরে হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে যাওয়ায় লাইনের উপরেই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন।
রেল মন্ত্রণালয়ের এক টুইটে বলা হয়েছে, ‘শুক্রবার ভোরে রেললাইনে কিছু শ্রমিক দেখে মালগাড়ির চালক ট্রেন থামানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তা করা যায়নি। বদলাপুর ও করমাদ স্টেশনের মাঝামাঝি জায়গায় পারভানী-মনমাদ এলাকায় ওই দুর্ঘটনাটি ঘটে। যারা মারা গেছেন তারা ছাড়াও আহত হয়েছেন একাধিক শ্রমিক। আহতদের উদ্ধার করে আওরঙ্গবাদ সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনাটি কীভাবে ঘটলো তা জানতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
দক্ষিণ রেলওয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা জানিয়েছেন,’ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গে রেল সুরক্ষা বাহিনী এবং পুলিশ দুর্ঘটনা স্থলে পৌঁছয়।‘
করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে গত ২৪ মার্চ থেকে ভারতে চলছে কঠোর লকডাউন। এর কারণে বিভিন্ন রাজ্যে আটকে পড়া লাখ লাখ শ্রমিককে নিজ নিজ বাড়িতে ফেরার অনুমতি দিয়ে গত ৩০ এপ্রিল নোটিশ জারি করে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। করোনাভাইরাসের লক্ষণ পরীক্ষা এবং ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকার শর্তে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের ব্যবস্থাপনাতে বাড়ি ফেরার নির্দেশনা দেওয়া হয়। শ্রমিকদের বহনে বিশেষ ট্রেনেরও ব্যবস্থা করা হয়। তবে ট্রেনের টিকিটের দাম এবং শ্রমিকদের যাবতীয় দায়-দায়িত্ব রাজ্য সরকারের উপর চাপিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য যে বিশেষ ট্রেনগুলির ব্যবস্থা হয়েছে তার ভাড়া কেন্দ্র বা রেল কেউই দেবে না। শ্রমিকদের কাছ থেকেই তা তুলতে হবে। এবং এই টাকা তুলে রেলের হাতে তুলে দেওয়ার দায়িত্বও রাজ্য সরকারগুলোরই। রাজ্য চাইলে শ্রমিকদের থেকে টাকা নাও নিতে পারে। তবে, টিকিট ছাড়া শ্রমিকরা ট্রেনে উঠতে পারবে না।যদিও বেশিরভাগ রাজ্যই নিজেদের রাজ্যের শ্রমিকদের বাড়ি ফেরাতে কেন্দ্রের সহযোগিতায় "শ্রমিক ট্রেন" চালাচ্ছে, তবে অনেকে আবার ব্যবস্থা নেয়নি।








