করোনাভাইরাস লকডাউন চলার সময়ে ভারতের উত্তর প্রদেশের মসজিদগুলোতে মাইক ব্যবহার ছাড়াই আজান দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি শশী কান্ত গুপ্ত এবং অজিত কুমারের বেঞ্চ এই অনুমোদন দিয়েছে। সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, সাবেক কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী সালমান খুরশিদ ও লোকসভা সদস্য আফজাল আনসারিসহ অন্যদের একাধিক আবেদনের শুনানি শেষে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে গত ২৫ মার্চ থেকে ভারতে কঠোর লকডাউন চলছে। এসময় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষকে ঘর থেকে বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। মুসলমান সম্প্রদায়ের জন্য লকডাউনের নিয়ম কানুনে কিছু শিথিলতার প্রয়োজনে এলাহাবাদ হাইকোর্টে বেশ কয়েকটি আবেদন জমা পড়ে। এসব আবেদনের শুনানি শেষে শুক্রবার মুসলমানদের জন্য বেশ কিছু শিথিলতার অনুমোদন দিয়েছে আদালত।
শুক্রবারের ওই আদেশে বলা হয়েছে, ‘আজান হয়তো ইসলামের অখণ্ড ও প্রয়োজনীয় অংশ হতে পারে কিন্তু মাইক কিংবা অন্য শব্দ বর্ধনকারী যন্ত্রের মাধ্যমে তা প্রচার করাকে ধর্মের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলা যায় না।’ দুই বিচারপতির আদেশে বলা হয়, ‘আমরা যে মতামতটি বিবেচনায় নিয়েছি তা হলো মসজিদের মিনার থেকে মুয়াজ্জিন শব্দ বর্ধনকারী যন্ত্রের ব্যবহার ছাড়াই নিজের কণ্ঠের মাধ্যমে আজান দিতে পারবেন আর কোভিড-১৯ মহামারি নিয়ন্ত্রণে দেওয়া গাইডলাইনের কথা বলে প্রশাসন এতে কোনও বাধার কারণ হয়ে উঠতে পারবে না।’
এলাহাবাদ হাইকোর্ট বেঞ্চের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের সংবিধানের ২৫ ধারায় নাগরিকের ধর্মের স্বাধীনতাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকার করা হলেও তা জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা বা স্বাস্থ্য কিংবা ভারতীয় সংবিধানের তৃতীয় অংশে বর্ণিত অন্যান্য বিধানের অধীন।
ওই আদেশে বলা হয়েছে, কোনও আবেদনকারী মসজিদের মাইক থেকে আজান দেওয়ার আবেদন করেনি। এতে বলা হয়েছে, ‘আবেদনকারীদের কেউই নিজেদের সংশ্লিষ্ট মসজিদে মাইক ব্যবহার করে আজান প্রচারের রেকর্ড উল্লেখ করেনি কিংবা আবেদনও করেনি আর সেকারণে এই ধরণের অনুমতি ছাড়া এগুলো ব্যবহার অবৈধ হবে আর তা এই আদালতের অনুমোদনের সঙ্গে সংঙ্গতিপূর্ণ হবে না।’ তবে এই ধরনের (মসজিদে আজানের জন্য মাইক ব্যবহারের) আবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করা হলে তা শব্দ দূষণ আইনসহ সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে বিবেচনা করা যেতে পারে।
এলাহাবাদ হাইকোর্টের আদেশের একটি অনুলিপি আদালতের রেজিস্টার জেনারেলকে উত্তর প্রদেশের মুখ্য সচিবের কাছে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই আদেশ মেনে চলা নিশ্চিত করতে মুখ্য সচিব রাজ্যের সব জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে তা পাঠিয়ে দেবেন বলে জানিয়েছে হাইকোর্ট বেঞ্চ।








