চীনের বেইজিংয়ে নতুন করে করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর সংক্রমণ ঠেকাতে জোরেসোরে তৎপরতা চালাচ্ছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। নতুন সংক্রমণের উৎসস্থল বলে বিবেচিত শিনফাদি পাইকারি বাজারে ভ্রমণকারী দুই লাখ মানুষকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন তারা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। উৎপত্তিস্থল চীনে ৮৩ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব থেমে যায় মে মাসের শেষ সপ্তাহেই। তবে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) টানা ৫৬ দিন পর প্রথমবারের মতো নতুন রোগী শনাক্ত হয় বেইজিংয়ে। গত কয়েকদিনে ৭৯ জনেরও বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। শিনফাদি বাজার এলাকায় নতুন আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ায় সেটি বন্ধ করে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। আশেপাশের ১১টি এলাকায় জারি করা হয় লকডাউন।
সংক্রমণ ঠেকাতে গত ৩০ মে থেকে যারা শিনফারি বাজারে গেছেন তাদের সবাইকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার (১৫ জুন) বেইজিং শহরের সরকারি কর্মকর্তা জু ইং বলেন, ‘দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে শনাক্তের কাজ চালাচ্ছি আমরা। অর্থাৎ যারা বাজারটি ভ্রমণ করেছেন তাদের বাড়ির দরজায় পৌঁছে যাচ্ছি আমরা। তাদেরকে সরাসরি ফোন করা হচ্ছে নয়তো উই চ্যাট ও অন্য অ্যাপস ব্যবহার করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।’
জু আরও জানান, বাজার ভ্রমণকারীদের শরীরে করোনা পরীক্ষার পাশাপাশি তাদেরকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হচ্ছে।
বেইজিং-এর শিনফাদি পাইকারী বাজার থেকে শহরের কোন কোন দোকানে খাবার সরবরাহ হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে ওই বাজারের কোনও জিনিস থেকে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে না পড়ে। বাজারে এবং বাজারের পার্কিং এলাকায় যেন কেউ প্রবেশ করতে না পারে তার জন্য পুলিশ ও নিরাপত্তা রক্ষীদের দিয়ে কড়া নিরাপত্তায় ঘিরে ফেলা হয়েছে ওই এলাকা। বাজারের বিভিন্ন ভাড়া ঘরে বসবাসকারী শ্রমিকদের বাসে করে নিরাপেদ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সোমবার থেকে বেইজিং-এ ফের স্কুল খোলার কথা ছিল। কিন্তু নতুন করে করোনা সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় এখন তা স্থগিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সব রকমের স্পোর্টস ইভেন্টগুলিও স্থগিত রাখা হয়েছে।








