মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও রাখাইনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যকার সংঘর্ষ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার মাত্রাও বেড়েছে। সংঘাতের অংশ হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় পুঁতে রাখা স্থলমাইন ও বিস্ফোরক ডিভাইস শিশুদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলছে। শিশুরা প্রাণ হারাচ্ছে, কারও কারও অঙ্গহানি হচ্ছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) মানবিক সহায়তাবিষয়ক সংগঠন সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রতিবেদনে এমন উদ্বেগ জানানো হয়েছে।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হলেও সংখ্যাগুরু বামারদের চেয়ে নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ে ভিন্ন রাখাইনের আরাকানিরা। নিজেদের ইতিহাস আর সংস্কৃতিকে সামনে আনতে চাওয়া মিয়ানমারের সংখ্যালঘু নৃগোষ্ঠীটির সদস্যদের নিয়ে গঠিত আরাকান আর্মি। আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবি তুলে প্রায় এক দশক আগে শুরু হয় তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম। রাখাইন ও শান রাজ্যে প্রায়ই আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ হয়ে থাকে। এর জেরে প্রাণ হারাতে হচ্ছে অনেককে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে লাখো মানুষ। সংঘর্ষের বলি হচ্ছে শিশুরাও।
সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্য রাখাইনে হত্যা, অঙ্গহানি ও অন্যায়-অবিচারের শিকার হচ্ছে শিশুরা। এ বছরের জানুয়ারি ও মার্চের মাঝামাঝি সময়ে শুধু রাখাইন রাজ্যের মধ্যবর্তী অংশেই ১৮ শিশু নিহত ও ৭১ শিশু শারীরিকভাবে আহত কিংবা অঙ্গ হারিয়েছে। ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে নিহত শিশুর সংখ্যা ছিল তিন। আহত হয়েছিল ১২ জন।
প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ, ওই এলাকায় স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষকদের প্রবেশের উপর বিধি-নিষেধ আরোপ করে রেখেছে সেনাবাহিনী।
মিয়ানমারে নিয়োজিত সেভ দ্য চিলড্রেনের শীর্ষ কর্মকর্তা ডানকান হার্ভে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মাইন ও ইম্প্রোভাইজড বিস্ফোরক ডিভাইসের ব্যাপক ব্যবহার শিশুদের জন্য সুনির্দিষ্ট হুমকি তৈরি করেছে। এ সংখ্যা সেখানকার পরিস্থিতির কঠিন এক চিত্র হাজির করেছে।’
জাতিসংঘ প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে একই ধরনের চিত্র ফুটে ওঠে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গত কয়েক মাসে শিশুদের বিরুদ্ধে অন্তত ৪৩২টি মারাত্মক সহিংস ঘটনা দেখা গেছে। এর মধ্যে কমপক্ষে ৪১ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে, অঙ্গহানির শিকার হয়েছে ১২০ জন। এর মধ্যে ছয় মাস বয়সী শিশুও রয়েছে।








