গত তিন দিনে লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় চীনা সেনাদের উপস্থিতির হার ‘উল্লেখজনকভাবে কমেছে’ বলে দাবি করেছেন ভারত সরকারের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা। সেদেশের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভারত-চীন বৈঠকের পর তিনটি পয়েন্টের সবগুলোতেই সেনা সংখ্যা কমতে দেখা গেছে। তবে বিবাদপূর্ণ ওই এলাকায় গত মে মাস থেকে যেসব অস্থায়ী ও আধা-স্থায়ী অবকাঠামো স্থাপন করা হয়েছিল, সেগুলো সরানো হয়নি। অবশ্য, এসব অবকাঠামো সরানোর বিষয়টি ২২ জুনের বৈঠকের আলোচ্য বিষয় ছিল না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এক মাসেরও বেশি সময় ধরে লাদাখ সীমান্তে ভারত ও চীনা সেনাদের মধ্যে উত্তেজনার পর গত ১৫ জুন (সোমবার) উভয় পক্ষ সংঘাতে জড়ায়। এতে ভারতের ২০ সেনা নিহত ও অপর ৭৬ জন আহত হয়। ভারত দাবি করে আসছে, চীনের অন্তত ৪৫ জন হতাহত হয়েছে। তবে চীন সরকারিভাবে কোনও হতাহতের খবর জানায়নি। দুই দেশই পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করার অভিযোগ এনেছে।
উত্তেজনা নিরসনে গত ২২ জুন ভারত ও চীনের মধ্যে কর্পস কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দ্য হিন্দুকে ভারত সরকারের ওই কর্মকর্তা জানান, ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল ‘কোনও পক্ষই সীমান্তে টহল, সেনা গতিবিধি, সামরিক যান চালাবে না। নতুন করে অবকাঠামোও নির্মাণ করবে না তারা।’ সম্প্রতি সীমান্ত এলাকার গালওয়ান, হট স্প্রিংস ও পাংগন তোসো লেকের নিকটবর্তী ফিঙ্গার এলাকায় সেনা উপস্থিতি কমেছে বলে দাবি করেন তিনি।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদেশি গবেষকরা যেসব স্যাটেলাইট ইমেজ প্রকাশ করেছেন সেগুলো বিশ্লেষণ করার জন্য ভারতের জাতীয় কারিগরি গবেষণা সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওইসব ছবি প্রকাশ করে দাবি করা হয়েছে ১৫ থেকে ২২ জুন পর্যন্ত গালওয়ানে নজরদারি চৌকি ও বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরি করেছে চীনা বাহিনী। তিনি বলেন, ‘প্রায় ৩০০-৫০০ ছবি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গালওয়ান উপত্যকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা সে ছবিগুলো টু ডি, যদিও প্রকৃত পরিস্থিতি ভিন্ন। চীনারা ১৫ জুনের পর অবকাঠামো স্থাপন করেছিল। তবে ২২ জনের পর নতুন অবকাঠামো স্থাপন করতে দেখা যায়নি। ছবিতে চীনা অংশে একটি হেলিপ্যাড দেখা যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে, সে হেলিপ্যাডটি কয়েকদিন আগে ভারতই নির্মাণ করেছিল।’
‘আমরা এ সারমর্মে উপনীত হয়েছি যে ২২ জুন এ ছবিগুলো তোলা হয়েছে। এ ছবিগুলোর ভিত্তিতে বলা যায় দুই দেশের আলোচনার পর নতুন কোনও অবকাঠামো স্থাপিত হয়নি। হ্যাঁ, এর আগে অবশ্য বেশ কিছু অবকাঠামো তৈরি করেছিল চীন।’ বলেন ওই কর্মকর্তা।








