শেষ হল ভারতীয় নারীর #হ্যাপিটুব্লিড প্রচারণা

বিদেশ ডেস্ক
০৫ ডিসেম্বর ২০১৫, ২১:৩২আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৩:০৩

_86829891_86829168 কেরালার এক হিন্দু মন্দিরে প্রবেশাধিকারকে কেন্দ্র করে এক ভারতীয় শিক্ষার্থী শুরু করেন এক অভিনব প্রচারণা। মন্দিরে ঋতুমতী নারীর প্রবেশাধিকার সীমিত করার প্রতিবাদে ও ঋতুস্রাব নিয়ে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে এই অনলাইন প্রচারণায় অংশ নেন হাজার হাজার ভারতীয় নারী। গত ২৪ নভেম্বর থেকে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত চলে হ্যাশট্যাগসমেত #হ্যাপিটুব্লিড প্রচারণা।
এই প্রচারণা শুরু করেছিলেন পাঞ্জাবের সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজির শিক্ষার্থী নিকিতা আজাদ(২০)। নারী রজঃস্বলা কিনা তা শনাক্ত করার যন্ত্রের প্রসঙ্গ উঠলে তা নিয়েই বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তিনি। কেরালার ওই মন্দিরের বোর্ড প্রেসিডেন্ট প্রায়ার গোপালাকৃষ্ণন বরাবর এক খোলা চিঠিও লেখেন নিকিতা।সেই চিঠিতে মন্দিরে নারীর প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিকে ‘পশ্চাদপদ, বর্বর ও পুরুষতান্ত্রিক’ অভিহিত করে প্রশ্নবিদ্ধ করেন তিনি।

_86834180_c77fc1b4-d9d9-43db-a2e9-5e00f0be3234

নিকিতা বলেন, “আমি খুবই বিস্মিত হয়েছি এমন একটি ঐতিহাসিক মন্দিরের ব্যবস্থাপকদের কাছ থেকে এ ধরনের বিবৃতি এসেছে। শুধু তাই নয়, আমরা ভারতীয় নারীরা প্রাত্যহিক জীবনযাপনে রজঃস্রাব নিয়ে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সবসময় দেখি। নারীর মাসিক রক্তপাত কোন অসুস্থতা বা অপবিত্র বিষয় তো নয়। তবুও আমাদের মাসিক হলে তা লুকিয়ে রাখতে হয়। টেলিভিশনে স্যনিটারি ন্যাপকিনের বিজ্ঞাপন শুরু হলে সবাই চ্যানেল বদলানোর জন্য অস্থির হয়ে যায়।”       

এদিকে মন্দির বোর্ড প্রেসিডেন্ট প্রায়ার গোপালাকৃষ্ণন দাবি করেন, তার বক্তব্যকে খণ্ডিত ও অপ্রাসঙ্গিকভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে। তিনি জানান, কোন নারী ঋতুমতী কিনা তা শনাক্ত করার কোন যন্ত্র থাকলে মন্দিরে নারীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হতো- এই মন্তব্যটি তার নয় বরং কোন সাংবাদিকের পক্ষ থেকে এসেছিল। 

তিনি বলেন, “পুরো কথোপকথন ভালোভাবে খতিয়ে দেখা হলে বোঝা যাবে ওই বক্তব্য মোটেও আমার দিক থেকে আসেনি।”

তবে তার এই কৈফিয়ত ভারতীয় নারীদের নিকিতার স্পষ্টভাষী, সাহসী ও যৌক্তিক প্রচারণায় অংশ নেওয়া থেকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। ফেসবুক ও টুইটারে হ্যাশট্যাগ দিয়ে হ্যাপি টু ব্লিড লিখে নারীরা নিজেদের ঋতুকালীন পণ্য, যেমন স্যানিটারি ন্যাপকিন, অন্তর্বাস ইত্যাদির ছবি প্রকাশ করেন।

নিকিতা ঘোষণা করেন, “যে ধর্ম পৃথিবীর অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে অপবিত্র মনে করে, তা আমরা মানি না”, তিনি আরও ঘোষণা করেন, “এই প্রচারণা মন্দিরে প্রবেশাধিকার অর্জনের জন্য নয়, বরং সমাজে প্রচলিত বৈষম্যমূলক পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আওয়াজ তোলার জন্য।” 

উল্লেখ্য, ভারতে ঋতুমতী নারীর রান্নাঘরে প্রবেশ করা নিয়েও সংস্কার রয়েছে। নারীশিক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝরে পড়ার হার দেখা যায় যখন কন্যাশিশুরা রজঃস্বলা হয়। গ্রামীণ ও শহরের দরিদ্র নারীরা প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা থেকে কেবল বঞ্চিত নন, শতকরা ৭০ ভাগ ভারতীয় নারী স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। সূত্র দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স, বিবিসি

/ইউআর/বিএ/ 

সম্পর্কিত
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হয়েও যেভাবে বিরোধীদলীয় নেতা হলেন ঋতব্রত
সর্বশেষ খবর
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম