জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে হুমকির মুখে পড়া দেশগুলোর ক্ষতিপূরণের ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ বিষয়ে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনের আলোচকরা সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। প্যারিসের সম্মেলনে এ বিষয় নিয়ে দেশগুলোর মধ্যে ভিন্নমত থাকলেও চুক্তির খসড়া প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সোমবার থেকে এ খসড়া প্রস্তাবে মন্ত্রীপর্যায়ে আলোচনা শুরু হবে।
এর ফলে জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ক্ষতিপূরণের দাবি অন্তত স্বীকৃতি পেল। বাংলাদেশ এসব ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম।
ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইসিসিএডি)-এর পরিচালক ড. সালেমুল হক বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত বিষয়টি খসড়া প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং আরও পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রীপর্যায়ের মিটিংয়ে আলোচনা হবে।’
তিনি জানান, স্বল্পোন্নত দেশগুলো (LDCs গ্রুপ) ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ নিয়ে পৃথক একটি ধারার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। আর উন্নত দেশগুলো চাচ্ছে এটাকে পরিশিষ্ট ধারায় রাখতে।
শনিবার অনুমোদিত খসড়ায় সবদেশকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি ও লস অ্যান্ড ড্যামেজ কমানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাস্তুচ্যুতি, অভিবাসন ও স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
ক্লাইমেট ইক্যুইটি অ্যান্ড জাস্টিস নেটওয়ার্কের সমন্বয়ক রেজাউল করিম চৌধুরি বলেন, ‘আমরা এখনও খুশি নই কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে খসড়ায় কোনও ধারা রাখা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন উদ্বিগ্ন কারণ যদি এর দায়ভার ও ক্ষতিপূরণ জলবায়ুর সঙ্গে সম্পৃক্ত হয় তাহলে এটা তাদের জন্য আইনি ও আর্থিক মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এ বিষয়ে সমঝোতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ৪৪টি ছোট দ্বীপ দেশের সঙ্গে বৈঠক করেছে।
শুক্রবার প্যারিসে এক প্রেস কনফারেন্সে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মধ্যস্ততাকারী টড স্টার্ন জানান, ক্ষতিপূরণ ও দায় আমরা এড়িয়ে যেতে পারি না। এ বিষয়ে অগ্রগতিরও ইঙ্গিত দেন তিনি।
/এএ/এফএ/








