লাদাখে শত্রুর চোখকে ফাঁকি দিতে বিকল্প একটি রাস্তা তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। ভারতীয় সেনারা যেন শত্রু পক্ষের নজরে না এসেই লাদাখে গতিবিধি চালাতে পারে তা নিশ্চিত করতে মানালি থেকে লেহ পর্যন্ত এ রাস্তাটি তৈরি হবে। এই রাস্তা পাহাড়ের উচ্চতায় থাকা এই কেন্দ্র শাসিত প্রদেশকে বাকি দেশের সাথে যুক্ত করার তৃতীয় লিংক হবে। ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই-এর প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
ভারত -চীন সীমান্ত নিয়ে লাদাখে উত্তেজনা এখনও অব্যাহত। সমস্যা সমাধানের জন্য এই দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা একাধিকবার আলোচনায় বসেছেন। কিন্তু এখনও উত্তেজনা পুরোপুরি নিরসন হয়নি। লাদাখ সীমান্ত ঘিরে বেশ কয়েক দশক ধরেই এই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এমন অবস্থায় লাদাখে সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সাব-সেক্টর নর্থের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য বিকল্প পথ হিসেবে লাদাখ ও কাশগরের মধ্যবর্তী একটি প্রাচীন কাফেলা বাণিজ্যপথ পুনরুদ্ধার করছে ভারত। এই পথ দিয়ে কারাকোরাম পাস, দীপসাং এবং ডিবিও-র এয়ারফিল্ডেও পৌঁছানো যাবে। বর্তমানে এই সব সংবেদনশীল এলাকায় পৌঁছতে হলে দারবুক-সায়ক-ডিবিও রোড ব্যবহার করতে হয়। ২৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার খুব কাছাকাছি দিয়ে গিয়েছে, ফলে সব সময় এই রাস্তায় শত্রুপক্ষের আক্রমণের একটা আশঙ্কা থেকেই যায়। এইজন্যই বিকল্প রাস্তা পুনরুদ্ধার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। এই রাস্তাটি সিয়াচেন বেসের কাছাকাছি সাসুমা থেকে শুরু হয়ে পূর্ব দিকে ১৭,৮০০ ফুট উচ্চতার সাসুর লা হয়ে দীপসাং সমতলভূমিতে ডিএসডিবিও রাস্তার সঙ্গে মিশবে। বর্তমানে সাসুমা থেকে সাসুর লা পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটারের একটি কর্দমাক্ত রাস্তা রয়েছে। যা শুধুমাত্র গ্রীষ্মকালেই ব্যবহার করা যায়। এই পুরো রাস্তার মেরামত হয়ে গেলে সাব-সেক্টর নর্থের বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে বিশেষ সুবিধা হবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর।
সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে এএনআই জানায়, নতুন রাস্তাটিতে গেলে আগের তুলনা প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা কম সময় লাগবে। চীনের পাশাপাশি প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের দিকেও নজর রাখবে ভারত। মনে করা হচ্ছে ১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধের সময় দ্রাস থেকে কার্গিল যাওয়ার রাস্তাটি দখল করতে মরিয়া প্রয়াস চালিয়েছে পাকিস্তানি সেনারা। সেই কথা মাথায় রেখেই নতুন রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন রাস্তাটি তৈরি হলে অল্প সময়ের মধ্যেই সমর সরঞ্জাম ও যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও সেনাবাহিনী তাড়াতাড়ি মোতায়েন করা যাবে।
নতুন রাস্তা নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। নতুন রাস্তাটি মানালিকে নিমুর কাছে লেহ-র সঙ্গে যুক্ত করবে। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই এলাকাটি পরিদর্শনও করেছেন। একই সঙ্গে দৌলত বেগ ওল্ডির রাস্তাও মেরামত করার কাজ শুরু হয়েছে। সূত্র বলছে, নতুন রাস্তাটি লেহ থেকে খারদুং লা পাস হয়ে সামাসা সাসের লা শায়োক ও দৌলত বেগ ওল্ডি এলাকায় হিমবাহের মধ্য দিয়ে যাবে। ইতোমধ্যে পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণের জন্য ১৪ নম্বর কর্পসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।








