গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে পাকিস্তানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক ভারতীয় নৌ কর্মকর্তা কুলভূষণ যাদবের রিভিউ পিটিশনের শুনানিতে ভারতের আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার জন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছে দিল্লি। এ ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিকভাবে আলোচনা চলছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব এসব তথ্য জানান।
২০১৬ সালের ৩ মার্চ কূলভূষণকে বেলুচিস্তানের মাসকেল এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পাকিস্তানে নাশকতা ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল পাকিস্তানের সেনা প্রধান জাভেদ বাওজা সামরিক আদালতে কূলভূষণের ফাঁসির রায় চূড়ান্ত করেন। ভারতের দাবি, যাদব নৌবাহিনী থেকে অবসরের পর ইরানে ব্যবসা করছিলেন। সেখান থেকে পাকিস্তান তাকে অপহরণ করেছে। এ বছরের ৩ আগস্ট পাকিস্তানের আদালতে জানিয়েছে, ভারতীয় নৌবাহিনীর এই প্রাক্তন কমান্ডার-কে রক্ষার জন্য ভারতকে আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে সে আইনজীবীকে পাকিস্তানের নাগরিক হতে হবে।
পাকিম্তানি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, এ মাসেই কুলভূষণের বিচারের জন্য ইসলামাবাদ হাইকোর্টের একটি বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে। সেই বেঞ্চে কুলভূষণের জন্য আইনি প্রতিনিধি নিয়োগ নিয়ে ৩ সেপ্টেম্বর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ভারতের দাবি, এই বিষয়ে পাকিস্তান সরকারি ভাবে কিছুই জানায়নি। বৃহস্পতিবার, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, পাকিস্তানে গুপ্তচরবৃত্তির মামলায় দোষী সাব্যস্ত কুলভূষণ যাদবের জন্য দিল্লি ভারতীয় আইনজীবী নিয়োগ করতে চায়। তিনি বলেন ‘আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায় মেনে কুলভূষণের অবাধ ও নিরপেক্ষ বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে পাকিস্তানকে। তার আগে এই মামলা সংক্রান্ত সব নথি ভারতের হাতে তুলে দেওয়া প্রয়োজন। কুলভূষণের সঙ্গে ভারতীয় কূটনীতিকদের অবাধে দেখা করতে দেওয়াও প্রয়োজন।’
এর আগে একতরফা বিচারের মাধ্যমে কূলভূষণ যাদবকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক আদালতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোর করেছিল ভারত। ২০১৮ সালের জুলাই সালে আন্তর্জাতিক আদালত কূলভূষণ মামলার রায় পর্যালোচনা ও পুনর্বিবেচনা করার আদেশ দিয়েছিল পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষকে। সেইসঙ্গে তাঁকে আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্যও পাকিস্তান সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।








