রাশিয়ার গুরুতর অসুস্থ বিরোধী নেতা আলেক্সাই নাভালনিকে চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে নেওয়া হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, পুতিনের কঠোর সমালোচনক এই নেতাকে বহনকারী বিমান এরইমধ্যে সাইবেরিয়া থেকে বার্লিনের উদ্দেশে যাত্রা করেছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে একটি ফ্লাইটে সাইবেরিয়ার টমস্ক থেকে মস্কো ফেরার সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন আলেক্সাই। এর আগে বিমানবন্দরের ক্যাফেতে তিনি চা গ্রহণ করেছিলেন। তার মুখপাত্র কিরা ইয়ারমাশ অভিযোগ করেন, চায়ের সঙ্গে মিশিয়ে তাকে বিষ প্রয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে। পরে বিমানটিকে জরুরি ভিত্তিতে সাইবেরিয়ার ওমস্কে অবতরণ করানো হয়। হাসপাতালে ভর্তির পর তিনি কোমায় চলে যান।
ওমস্ক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে কৃত্রিম ফুসফুস ভেন্টিলেটরের সহায়তায় আলেক্সাই নাভালনি টিকে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইয়ারমাশ। এমন অবস্থায় নাভালনিকে চিকিৎসা দিতে তাকে বার্লিনের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে জার্মান এনজিও ‘সিনেমা ফর পিস’। তাকে আনতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি রওনাও দিয়ে ফেলে। এমন অবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গুরুতর অসুস্থ নাভালনির শারীরিক অবস্থা তাকে জার্মানিতে নেওয়ার পক্ষে অনুকূল নয়।
তবে পরবর্তীতে তারা জানান, এখন নাভালনির শারীরিক অবস্থা তাকে জার্মানিতে নেওয়ার মতো স্থিতিশীল রয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, বিরোধী এই রুশ নেতার স্ত্রী ইউলিয়া তার সঙ্গে গেছেন। মুখপাত্র কিরা ইয়ারমাশ টুইটারে লিখেছেন, আলেক্সাই-এর বিমান বার্লিনের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। যারা সাহায্য করেছেন তাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আলেক্সাই-এর জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য লড়াই কেবল শুরু হলো’।
আলেক্সাই সাইবেরিয়ার যে হাসপাতালটিতে ছিলেন, তার উপ-প্রধান আনাতোলি কালিনিশেনকো প্রথমে এক ব্রিফিংয়ে জানান, নাভানলির শরীরে বিষের কোনও অস্তিত্ব মেলেনি। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত রক্ত ও মূত্রতে কোনও বিষ শনাক্ত করা যায়নি, এর উপস্থিতির কোনও চিহ্ন নেই।’ পরে হাসপাতালটির প্রধান চিকিৎসক আলেক্সান্ডার মুরাকোভস্কি জানান, তার পোশাক ও আঙুলে শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত রাসায়নিক পাওয়া গেলেও তার শরীরের অভ্যন্তরে এখন পর্যন্ত পদার্থটির অস্তিত্ব শনাক্ত করা যায়নি।
নাভানলির স্ত্রী ইউলিয়া ও তার মুখপাত্র কিরা ইয়ারমাশ এর আগে অভিযোগ করেন, সাইবেরিয়ার হাসপাতালে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি ছাড়াই তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ক্রেমলিনের চাপে ডাক্তাররা তাকে জার্মানিতে নিতে বাধা দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, এর মধ্য দিয়ে নাভানলির জীবন সংকটের মধ্যে ফেলে দেওয়া হচ্ছে।








