হিমালয় সংলগ্ন পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তে চীনের সঙ্গে উত্তেজনা চলার মধ্যেই পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে ভারত। ভারতীয় সেনাদেরকে পূর্বাঞ্চলে হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। ওই এলাকায় অতর্কিতে কোনও হানা হলে যেন তার যোগ্য জবাব দেওয়া যেতে পারে তার জন্য আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে ভারত। অরুণাচল প্রদেশের আনজো জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত সেনা। ভারত সরকারের এক কঅর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এসব তথ্য জানিয়েছে।
গত মে মাস থেকেই লাদাখে ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত সংঘাত জারি রয়েছে। গত ১৫ জুন তা চরমে ওঠে। পেট্রোলিং পয়েন্ট-১৪-এর কাছে দুই দেশের সেনার মধ্যে সংঘর্ষে প্রাণ হারান ভারতের ২০ জন সেনা। তারপর থেকে সীমান্তে শান্তি ফেরাতে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে একাধিক বৈঠক হয়েছে। তবে চূড়ান্ত কোনও সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। এরমধ্যেই ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ২৯ আগস্ট সীমান্তে চীনা সেনাদের আগ্রাসনের একটি প্রচেষ্টা থামিয়ে দিতে পেরেছে তারা। পাল্টা দাবিতে বেইজিং জানিয়েছে, তারা সীমান্তে কোনও আগ্রাসনের প্রচেষ্টা চালায়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গালওয়ান সংঘর্ষের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার উত্তরপূর্বেও যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে চাইছে ভারত। সেই কারণেই ওই এলাকায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। অরুণাচল প্রদেশের আনজো জেলার ডেপুটি কমিশনার আয়ুষি সুদান বলেন, ‘এটা ঠিক যে ভারতীয় সেনার গতিবিধি এখানে অনেকটা বেড়েছে। কিন্তু কোনও ভাবে চীনা সেনা এখানে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা করেছে, তেমন কোনও খবর আসেনি।’ তিনি জানান, গালওয়ানের ঘটনার পরেই ওই এলাকায় সেনা সদস্যদের গতিবিধি বাড়ানো হয়েছে।
চীনের সঙ্গে সীমান্তে অবস্থিত অরুণাচল প্রদেশ। এই রাজ্যকে নিজেদের বলে দীর্ঘ দিন ধরে দাবি করে আসছে চীন। ১৯৬২ সালে এখানে পুরোদস্তুর যুদ্ধ হয়েছিল। সে জায়গা থেকে ধারণা করা হয়, ভবিষ্যতেও সেরকম কোনও সংঘর্ষ হলে অরুণাচলে তার প্রভাব পড়বে।








