রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সমালোচক ও দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সাই নাভালনিকে বিষ প্রয়োগ করার অভিযোগ প্রত্যাখান করেছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ক্রেমলিন দাবি করেছে, নাভানলির সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছে, রাশিয়া তা জানার চেষ্টা করছে।
২ সেপ্টেম্বর (বুধবার) জার্মানির এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, টক্সিকোলোজি (বিষবিদ্যা) পরীক্ষায় সেখানে চিকিৎসাধীন নাভানলির শরীরে নোভিচক গ্রুপের রাসায়নিক নার্ভ এজেন্ট থাকার সন্দেহাতীত প্রমাণ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল বলেন, নাভালনিকে হত্যাচেষ্টার স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। ঘটনাকে ‘নিষ্ঠুর’ আখ্যা দিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, ‘এখন রাশিয়ার সরকারকেই ব্যাখ্যা দিতে হবে যে নাভানলির ঠিক কী হয়েছিল’। হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকেও এই ঘটনা ‘সর্বার্থে নিন্দনীয়’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
এসব মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রুশ প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘জার্মানি ও ইউরোপের অন্য দেশগুলোতে আমাদের অংশীজনেরা এ বিষয়ে কোনও প্রকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাক, তা আমরা চাই না। এখানে রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার যৌক্তিকতা নেই।’
নাভালনির ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানাচ্ছে। এসব দেশ বাল্টিক সাগরে নির্মাণাধীন নর্ড স্ট্রিম-২ প্রকল্প বন্ধেরও দাবি তুলেছে। ১ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাশিয়া থেকে জার্মানিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ দ্বিগুণ হবে।
পেসকভ বলছেন, নাভালনিকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর নতুন করে কোনো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের কোনও কারণ নেই। ক্রেমলিন মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন, তার সঙ্গে যা ঘটেছে, তার অদ্যোপান্ত জানার চেষ্টা করছে রাশিয়া। নাভালনিকে বিষপ্রয়োগে সরকারের কোনও লাভ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
গত ২০ আগস্ট সকালে একটি ফ্লাইটে সাইবেরিয়ার টমস্ক থেকে মস্কোয় ফেরার সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন আলেক্সাই। বিমানটিকে জরুরি ভিত্তিতে সাইবেরিয়ার ওমস্কে অবতরণ করিয়ে তাকে সেখানকার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি কোমায় চলে যান। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয় বার্লিনের চ্যারিতে হাসপাতালে। এখনও কোমায় রয়েছেন তিনি।
নাভানলির ঘনিষ্ঠদের অভিযোগ, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে তাকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। গত ২৫ আগস্ট এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকোভের কাছে ওই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এটা সত্য হওয়ার কোনও উপায় নেই। তিনি বলেন, নাভানলির শরীরে যতক্ষণ পর্যন্ত বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া না যাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত রাশিয়ায় এটা নিয়ে মামলা বা তদন্তও শুরু হবে না।
এর আগে ২০১৮ সালে রাশিয়ার সাবেক গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়ে ইউলিয়াকেও যুক্তরাজ্যে নোভিচক নার্ভ এজেন্ট প্রয়োগ করা হয়। সে সময়ও পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল।








