আঙ্কারার সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই তুরস্ক সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে গ্রিস। মূলত তুরস্ক থেকে ইউরোপমুখী অভিবাসীদের ঢল ঠেকাতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। কেননা, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আঙ্কারা ইউরোপমুখী অভিবাসীদের ঢল না থামালে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
রবিবার গ্রিসের অভিবাসন প্রতিমন্ত্রী জর্গোস কাউমাউসাকোস প্রকাশ্যেই তার দেশের প্রত্যাশা অনুযায়ী তুরস্কের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
জর্গোস কাউমাউসাকোস বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে তুরস্ক চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে অভিবাসীদের ব্যবহার করতে পারে।
আগামী ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ইউরোপীয় কাউন্সিলের বৈঠকের শীর্ষ এজেন্ডায় রয়েছে তুরস্ক ও গ্রিসের মধ্যকার বিবাদের বিষয়টি। ফ্রান্স ও গ্রিসের মতো দেশগুলো তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আরোপের জন্য সংস্থাটির ওপর চাপ প্রয়োগ করছে।
সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের ভয়াবহতায় তুরস্কে আশ্রয় নিয়েছে লাখ লাখ শরণার্থী। এই শরণার্থীদের অনেকেই তুর্কি-গ্রিস সীমান্ত দিয়ে ইউরোপের অন্যান্য দেশে প্রবেশের চেষ্টা করে থাকে। ইইউ’র সঙ্গে আঙ্কারার সমঝোতা অনুযায়ী শরণার্থীদের ইউরোপে প্রবেশ ঠেকানোর অঙ্গীকার করেছিল তুরস্ক। তবে গ্রিস-তুর্কি বিবাদে ইউরোপীয় ইউনিয়ন মোটা দাগে গ্রিসের পক্ষ নেওয়ায় এ পরিস্থিতিতে তুরস্কও অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ফলে ইউরোপমুখী শরণার্থীদের ঢল সামাল দিতে সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে গ্রিস।
এদিকে গ্রিসের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই নর্দার্ন সাইপ্রাসে সামরিক মহড়া শুরু করেছে তুরস্ক। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে তাই এটি বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। রবিবার থেকে শুরু হওয়া এ মহড়া চলবে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।
শনিবারই তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘গ্রিস হয় রাজনীতি ও কূটনীতির ভাষা বুঝবে, না হয় তাদের বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে হবে। তুরস্কের জনগণ যেকোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।’
তুর্কি ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘আমাদের ও তার্কিশ রিপাবলিক অফ নর্দার্ন সাইপ্রাসের সামরিক অগ্রাধিকার একই।’ তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, মহড়া সাফল্যের সঙ্গে চলছে।
এই পরিস্থিতিতে রবিবার এরদোয়ান ফোন করেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টকে। ফোনে এরদোয়ান অনুরোধ করেন, এ ইস্যুতে ইইউ যেন একতরফা গ্রিসের পক্ষে অবস্থান না নিয়ে বরং নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে।
এরদোয়ানের অভিযোগ, ইউরোপের রাজনীতিবিদরা যে ধরনের উসকানিমূলক বিবৃতি দিচ্ছেন, তাতে মনে হচ্ছে তারা সমস্যার সমাধান চান না।
পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস তোলা নিয়ে গ্রিস ও তুরস্কের মধ্যে বিরোধ ক্রমশ জটিল আকার নিচ্ছে। তুরস্ক গত মাসে তেল ও গ্যাস খোঁজার জন্য একটি জলযান গ্রিস ও সাইপ্রাসের মধ্যবর্তী এলাকায় পাঠিয়েছে।
আঙ্কারার দাবি, ওই এলাকা তাদের জলসীমার মধ্যে পড়েছে। তবে এ নিয়ে জোরালে আপত্তি তোলে গ্রিস। একপর্যায়ে ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল জানান, দুই দেশ আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে। পরে গ্রিসের পক্ষ থেকে আলোচনায় অস্বীকৃতি জানানো হয়। আর এরদোয়ান বলেছেন, তার দেশ সবসময়ই আলোচনার জন্য প্রস্তুত। সূত্র: ডিডব্লিউ, আল জাজিরা।








