তুরস্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিমান ধ্বংসের অভিযোগ আর্মেনিয়ার

বিদেশ ডেস্ক
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:২৬আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৪৩

নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে শুরু হওয়া সংঘাতে বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আর্মেনিয়ার একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাদের অভিযোগ, সোভিয়েত আমলে তৈরি এসইউ-২৫ বিমানটিকে ভূপাতিত করেছে আজারবাইজানকে সমর্থন দেওয়া তুরস্কের এফ-১৬ বিমান। তবে ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তুরস্ক। এদিকে বিরোধপূর্ণ ওই পার্বত্য অঞ্চলে গত তিন দিনের সংঘাতে প্রায় একশ’ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। সোভিয়েত আমলে তৈরি এসইউ-২৫ যুদ্ধবিমান

নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের পুরনো সংঘাত গত রবিবার থেকে নতুন করে আবার শুরু হয়েছে। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দুই দেশের এই সংঘাত ওই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে এই সংঘাতে রাশিয়া ও তুরস্কের জড়িয়ে পড়ার জোরালো আশঙ্কা করছেন অনেকেই। কেননা, আর্মেনিয়ায় রয়েছে রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটি আর বর্তমান সংঘাতে আজারবাইজানকে সমর্থন দিচ্ছে তুরস্ক।

মঙ্গলবার আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, নিজেদের আকাশসীমায় অবস্থানকারী এসইউ-২৫ যুদ্ধবিমানটিকে গুলি করে ভূপাতিত করে তুরস্কের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। এতে বিমানটির পাইলট নিহত হয়। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি সামরিক কাজে নিয়োজিত ছিল।

তবে বিমান ভূপাতিতের অভিযোগ অস্বীকার করে তুরস্কের যোগাযোগ পরিচালক ফাহরেত্তিন আলতুন বলেছেন, ‘প্রচারণার সস্তা কৌশল প্রয়োগের বদলে দখলকৃত এলাকা থেতে আর্মেনিয়ার সরে যাওয়া উচিত।’ আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও তুরস্কের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এর আগে রাশিয়ার তরফে বলা হয়েছে, নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলের সংঘাত নিয়ে আর্মেনিয়া, আজারবাইজান ও তুরস্কের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে তারা। ক্রেমলিনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সামরিক সহায়তা দেওয়া নিয়ে কোনও আলোচনা হলে তাতে কেবল বিরোধী পক্ষের ক্ষোভকে উসকে দেবে।

উল্লেখ্য, নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলটি আজারবাইজানের ভেতরে অবস্থিত হলেও ইয়েরেভান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করছে আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। ১৯৮০-এর দশকের শেষদিকে অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। ১৯৯১ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মুহূর্তে সংঘর্ষ চূড়ান্ত আকার ধারণ করে। ১৯৯৪ সালে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত এই সংঘর্ষে ৩০ হাজার মানুষ নিহত হয়। পরে ২০১৬ এবং এই বছরের শুরুতেও সংঘাতে জড়ায় দুই পক্ষ।

/জেজে/এমওএফ/
সম্পর্কিত
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম