রাশিয়ার মধ্যস্থতায় আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কয়েক মিনিটের মাথায় ওই সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির গানজা শহরে শনিবার রাতে বেসামরিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে আর্মেনিয়া। এতে অন্তত সাত আজেরি নিহত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে আর্মেনিয়ার এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক। একইসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আর্মেনিয়ার মিত্র রাশিয়ার সঙ্গে সঙ্গে আলোচনা করেছে আঙ্কারা। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে রবিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রবিবার এক ফোনালাপে এ বিষয়ে কথা বলেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু এবং রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ।
ফোনালাপে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার ব্যাপারে আর্মেনিয়াকে সতর্ক করতে রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানান তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
শুক্রবার মস্কোয় রাশিয়া, আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ওই যুদ্ধবিরতির বিষয়ে একমত হয় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
সমঝোতার পরদিনই আর্মেনিয়ার এমন হামলার বিষয়ে মিত্র আজারবাইজানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে আঙ্কারা। সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আজেরি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
নাগরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের পুরনো সংঘাত গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে আবার শুরু হয়। গত কয়েক দিনের সংঘাতে ৩ শতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রুশ প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে দুই পক্ষ মস্কোতে অস্ত্রবিরতির আলোচনায় সম্মত হয়। সেই আলোচনা শেষে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোর ৬টার কিছু সময় আগে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে অস্ত্রবিরতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
রবিবার (১১ অক্টোবর) টুইটার পোস্টে আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় লিখেছে, ‘আর্মেনীয় বাহিনী রাতে নতুন করে গানজার আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে সাত জন নিহত ও ৩৩ জন আহত হয়েছে। হতাহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।’ এরপরই আর্মেনিয়ার এমন হামলার নিন্দায় সরব হয় তুরস্ক।








