যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে বিচারপতি পদে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনোনীত প্রার্থী এমি কনি ব্যারেটের নিয়োগ চূড়ান্তের প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটির সিনেট। সোমবার (১২ অক্টোবর) সিনেট শুনানির প্রথম দিনেই অংশ নিয়ে বক্তব্য রেখেছেন ৪৮ বছর বয়সী রক্ষণশীল বিচারক ব্যারেট। প্রেসিডেন্টের মনোনয়ন পাওয়ায় গর্বিত এবং আপ্লুত হওয়ার কথা জানিয়ে আইনি মামলাগুলোর নিরপেক্ষ বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিতর্ক শেষে ভোটাভুটির মধ্য দিয়ে তার নিয়োগ দ্রুত নিশ্চিত করতে চায় রিপাবলিকান শিবির। তবে আগামী ৩ নভেম্বর নির্বাচনের আগে নতুন বিচারপতি নিয়োগের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে ডেমোক্র্যাটরা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের সবচেয়ে বয়স্ক বিচারপতি রুথ বেডার গিন্সবার্গের মৃত্যু হয়। উদারপন্থী এই বিচারকের মৃত্যুর এক সপ্তাহের মাথায় তার স্থলে কনি ব্যারেটকে মনোনয়ন দেন ট্রাম্প। এই নিয়োগ চূড়ান্ত হলে সুপ্রিম কোর্টের নয় বিচারপতির মধ্যে ৬-৩ এ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যাবে রক্ষণশীলরা।
যুক্তরাষ্ট্রের আইনের আওতায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো নিয়ে রুল জারির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালতের মতাদর্শিক ভারসাম্য খুব জরুরি। সর্বোচ্চ মার্কিন আদালত সুপ্রিম কোর্ট একজন প্রধান বিচারপতি ও আটজন বিচারপতি নিয়ে গঠিত হয়। প্রেসিডেন্ট মনোনীত বিচারপতিদের নিয়োগ দেয় সিনেট। একবার নিয়োগ দেওয়ার পর পদত্যাগ, অবসর বা অভিশংসন ছাড়া ওই বিচারপতিরা আমৃত্যু দায়িত্ব পালন করতে পারেন। ট্রাম্প তার শাসন মেয়াদে দুইজন বিচারপতিকে নিয়োগ দিতে পেরেছেন। গিন্সবার্গের মৃত্যুর পর তৃতীয় বিচারপতিকে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে তার। ফলে আগামী কয়েক দশক ধরে আইনগত নানা বিষয়ের সমাধান পক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে তাদের। তবে এর বিরোধিতা করছে বিরোধী ডেমোক্র্যাট শিবির।
ট্রাম্প মনোনীত বিচারপতি কনি ব্যারেটের নিয়োগ চূড়ান্ত করতে সোমবার সকাল থেকে চার দিনের শুনানি শুরু করেছে সিনেটের বিচার বিভাগীয় কমিটি। এই অধিবেশনের দায়িত্বে আছেন কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। এই শুনানিতে অংশ নিয়ে কার্যত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেতে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ব্যারেট। আজীবনের জন্য নিয়োগ পাওয়ার জন্য এই শুনানিতে তিনি তার আইনি দর্শন ও যোগ্যতা তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন।
সেই সুযোগে কনি ব্যারেট নিজের মতাদর্শ গঠনে তার পরিবার ও বাবা-মায়ের শিক্ষার গুরুত্ব বর্ণনা করেন। সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি অ্যান্টোনিন স্কালিয়াসহ যেসব বিচারকের সঙ্গে তিনি কাজ করেছেন তাদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি। স্কালিয়ার প্রসঙ্গে ব্যারেট বলেন, ‘তার বিচারিক মতাদর্শ ছিলো সোজাসাপ্টা: আইন যেভাবে লেখা হয়েছে বিচারক সেভাবেই তা প্রয়োগ করবেন, বিচারক যেভাবে চাইবেন সেভাবে নয়।’






