দক্ষিণ চীন সমুদ্র এবং এশিয়ার অন্যান্য অংশে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা উসকে দেওয়ার মার্কিন কৌশলের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে চীন। এশিয়ার দেশগুলোকে এ বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানান চীনের মন্ত্রী। তিনি বলেন, দক্ষিণ চীন সমুদ্রে বাহ্যিক হস্তক্ষেপ সরাতে বেইজিং এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান সদস্যদের একসঙ্গে কাজ করা উচিত। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র পথ দক্ষিণ চীন সমুদ্রে গত কয়েক মাসে সামরিক মহড়া চালিয়েছে বেইজিং। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, বেইজিং এই অঞ্চলে সামুদ্রিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে চাইছে। ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের মাধ্যমে এই অঞ্চলের বিশ্বস্ত সহযোগীতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে ওয়াশিংটনের এই কৌশলকে পূর্ব এশিয়ার জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বলে বিবেচনা করে চীন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সংক্ষিপ্ত সফরে থাকা চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, ‘আমরা (চীন ও মালয়েশিয়া) উভয়ে মনে করি দক্ষিণ চীন সমুদ্র কোনোভাবেই যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের মাধ্যমে ক্ষমতা প্রদর্শনের মাঠ হয়ে উঠতে পারে না।’ তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ চীন সমুদ্রে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পূর্ণ সক্ষমতা এবং বিচক্ষণতা চীন ও আসিয়ানের রয়েছে। এছাড়া এটি আমাদের দায়িত্বও।’ যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিশামমুদ্দিন হুসেন বলেন, সামুদ্রিক বিরোধ শান্তিপূর্ণ আঞ্চলিক আলোচনার মধ্য দিয়েই নিরসন হওয়া উচিত।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও আগে থেকে বলে আসছেন, ওয়াশিংটন অবাধ ও উন্মুক্ত এশিয়া চায়, কোনও নির্দিষ্ট দেশের কর্তৃত্ব নয়। এদিকে ফিলিপাইনের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার বলেছেন, চীন-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে সমুদ্রের পরিস্থিতি খুবই উত্তেজক হয়ে পড়েছে।








