কথিত ‘আলাদিনের চেরাগ’ কিনতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের একজন চিকিৎসক। প্রতারক চক্র বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পর বুঝতে পারেন তিনি আসলে প্রতারণার খপ্পরে পড়েছেন। পরে থানায় মামলা করেন তিনি।
আলাদিনের চেরাগ সব ইচ্ছা পূরণ করে দেবে। এমন আশ্বাসে ওই চিকিৎসকের কাছে একটি চেরাগ বা প্রদীপ বিক্রি করে প্রতারক চক্র। আর যিনি এটি কিনেছেন তিনি একজন লন্ডন ফেরত চিকিৎসক।
এই ঘটনা উত্তরপ্রদেশের খারনগর এলাকার। সেখানকার বাসিন্দা চিকিৎসক লাকি খান ব্রহ্মপুরী থানায় তাকে ঠকানোর অভিযোগ দায়ের করেছেন। জানা গেছে, কোটিপতি হওয়ার লোভেই বিপুল পরিমাণ অর্থ গচ্ছা গেছে তার।
পুলিশকে ওই চিকিৎসক জানিয়েছেন, ২০১৮ সালে সামিনা নামে এক রোগীনীর অপরেশন করেন তিনি। এর পরে সামিনার বাড়িতে মাঝমাঝেই ড্রেসিং করতে যেতেন। সেখানেই নিজেকে তান্ত্রিক বলে পরিচয় দেওয়া ইসলামুদ্দিনের সঙ্গে আলাপ হয় তার। নিজের জাদুবিদ্যার গুণে চিকিৎসককে কোটিপতি বানিয়ে দিতে পারে বলে দাবি করে ইসলামুদ্দিন। এরপর আনিস নামে এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ইসলামুদ্দিন একটি প্রদীপ বিক্রির প্রস্তাব দেয় লাকিকে।
তাকে বলা হয়, এটিই আলাদিনের আশ্চর্য চেরাগ। যে কোনও ইচ্ছাপূরণের ক্ষমতা রয়েছে এই চেরাগের। চিকিৎসক এমনও দাবি করেছেন যে, ইসলামুদ্দিন ও আনিস নাকি ওই চেরাগ থেকে ‘জিন’ বের করিয়ে দেখায়। এর পরেই তিনি বিশ্বাস করে ওই প্রদীপটি কিনতে রাজি হয়ে যান।
বিবিসি জানিয়েছে, ওই চেরাগের জন্য চিকিৎসকের কাছে দুই লাখ ডলার চেয়েছিল প্রতারকরা। পরে এটির দাম ৪১ হাজার ৬০০ ডলার নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৫ লাখ টাকার কিছু বেশি।
ধাপে ধাপে অর্থ পরিশোধের পর ওই চিকিৎসককে বলা হয়, চেরাগটি দেওয়া যাবে না। কারণ, সেটি স্পর্শ করলে চিকিৎসকের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। কিছুদিন পরে চিকিৎসক বুঝতে পারেন, তিনি ঠকেছেন। তান্ত্রিক পরিচয় দেওয়া ইসলামুদ্দিন আসলে রোগিনী শামিমার স্বামী। তাকে ধোঁকা দিতে বন্ধু আনিসের সাহায্য নিয়ে জিন সেজেছিল ইসলামুদ্দিন। এরপরই তিনি পুলিশের কাছে যান।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা অমিত রাই জানিয়েছেন, ইসলামুদ্দিন ও আনিসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, শামিমা নামের ওই নারীও এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত। তারও খোঁজ করা হচ্ছে। সূত্র: আনন্দবাজার, বিবিসি।








