গণতন্ত্রপন্থী চার জন বিরোধী দলীয় আইনপ্রণেতাকে বহিষ্কার করেছে হংকং। এই বহিষ্কারাদেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। এর আগে বেইজিং এক প্রস্তাব অনুমোদন করে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করা রাজনীতিবিদদের অযোগ্য ঘোষণা করার ক্ষমতা অঞ্চলটির সরকারকে দেয়। চার আইনপ্রণেতাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে অঞ্চলটির স্বাধীনতা খর্বের আরেকটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। হংকং সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সেখানকার গণতন্ত্রপন্থী আরও বেশ কয়েক জন আইনপ্রণেতা পদত্যাগ করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
গত জুনে চীন সরকার হংকংয়ের জন্য নতুন নিরাপত্তা আইন কার্যকর করলে অঞ্চলটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। গণতন্ত্রপন্থীরা চীন সরকারের ওই আইনকে স্বাধীনতা খর্বের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখে থাকে। ব্যাপক বিক্ষোভের পাশাপাশি ওই আইনের জেরে হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লামসহ বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞারও কবলে পড়েছেন। তবে এসব বিক্ষোভ ও নিষেধাজ্ঞাকে কার্যত আমলে নিচ্ছে না বেইজিং।
হংকংয়ের রাজনীতিবিদদের অযোগ্য ঘোষণা করার নতুন প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছে চীনের ন্যাশনাল পিউপিল’স কংগ্রেসের স্টান্ডিং কমিটি। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আইনপ্রণেতারা যদি হংকংয়ের স্বাধীনতাকে সমর্থন করেন, চীনের সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করেন, আঞ্চলিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে বিদেশি শক্তিকে আহ্বান জানান কিংবা অন্য কোনও উপায়ে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেন তাহলে তাদের অযোগ্য ঘোষণা করা হবে। ওই প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, আদালতের অনুমোদন ছাড়াই সরাসরি হংকং সরকার এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আইনপ্রণেতাদের অযোগ্য ঘোষণা করতে পারবে।
বেইজিংয়ে ওই প্রস্তাব অনুমোদনের কিছুক্ষণের মধ্যে হংকংয়ের পার্লামেন্টের চার আইনপ্রণেতাকে অযোগ্য ঘোষণা করে আঞ্চলিক সরকার। পার্লামেন্ট থেকে বহিষ্কার হওয়া চাই আইনপ্রণেতা হলেন সিভিক পার্টির আলভিন ইয়েয়াং, কোয়ক কা-কি এবং ডেনিস কোয়ক। এছাড়া প্রফেশনালা গিল্ড দলের কেন্নেথ লেয়াং।
বহিষ্কার হওয়া চার আইনপ্রণেতাই মধ্যপন্থী বলে বিবেচিত আর তারা কখনওই হংকংয়ের স্বাধীনতাকে সমর্থন করেননি। বুধবার ডেনিস কোয়ক সাংবাদিকদের বলেন, ‘যদি যথাযথ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ, পদ্ধতি ও এর প্রয়োগের সুরক্ষা এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য লড়াই করার পরিণতি যদি বহিষ্কার হয়, তাহলে তা আমার জন্য সম্মানের।’ এই বছর স্থগিত হয়ে যাওয়া এক নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইলে বহিষ্কৃত চারজনসহ মোট ১২ আইনপ্রণেতাকে আটকে দেয় হংকং সরকার।
হংকংয়ের ৭০ আসনের পার্লামেন্টে গণতন্ত্রপন্থী আইনপ্রণেতাদের রয়েছে ১৯টি আসন। এদের কাউকে অযোগ্য ঘোষণা করা হলে তারা সকলেই গত সোমবার গণপদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন।








