প্রধানমন্ত্রী নিকোল পশিনিয়ানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে আর্মেনিয়ার হাজার হাজার মানুষ। বিরোধপূর্ণ নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলে সংঘাত নিরসনে প্রতিবেশি আজারবাইজানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিরোধিতা করছেন বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ এই চুক্তির মাধ্যমে আজারবাইজানের আঞ্চলিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
কারাবাখের যুদ্ধ বন্ধে গত মঙ্গলবার একটি চুক্তিতে উপনীত হয় রাশিয়া, আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া। আজেরি বাহিনী আর্মেনিয়ার কাছ থেকে কারাবাখের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর শুশা দখলের পর এ চুক্তিতে উপনীত হয় তিন দেশ। শুশা কারাবাখের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে যুদ্ধ হলেও চুক্তিতে রাশিয়া যুক্ত হয়েছে মূলত মধ্যস্থতাকারী হিসেবে।
ওই চুক্তির বিরোধিতা করে আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়ারাভানে হাজার হাজার মানুষ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রীকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়েও স্লোগান দিনে। বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনেও ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেন।
উল্লেখ্য, নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলটি আজারবাইজানের ভেতরে অবস্থিত হলেও ইয়েরেভান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করছে আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। ১৯৮০-এর দশকের শেষদিকে অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। ১৯৯১ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মুহূর্তে সংঘর্ষ চূড়ান্ত আকার ধারণ করে। ১৯৯৪ সালে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত এই সংঘর্ষে ৩০ হাজার মানুষ নিহত হয়। পরে ২০১৬ সালের শুরুতেও সংঘাতে জড়ায় দুই পক্ষ।
নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের পুরনো সংঘাত গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে আবার শুরু হয়। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, এ সংঘাতে এরইমধ্যে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। উভয়পক্ষেরই দুই হাজারেরও বেশি করে মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।








