মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিষ্ঠান ফাইজার দাবি করেছে, তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালের চূড়ান্ত বিশ্লেষণে তাদের করোনার টিকা ৯৫ শতাংশ কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা করবেন। বুধবার প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের টিকা বয়স্কদেরও করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সক্ষমতা দেখিয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনও গুরুতর উদ্বেগের ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফাইজার জার্মান প্রাণ-প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বায়োএনটেক-এর সঙ্গে যৌথভাবে এই ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেছে। তারা এখন যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) কাছে ভ্যাকসিনটি অনুমোদন দেওয়ার আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভ্যাকসিনটির অনুমোদন দিতে যেন কয়েক দিনের মধ্যে যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় সে বিষয়ে এফডিএকে অনুরোধ করবে তারা। আর দ্রুত অনুমোদন পেলে এ বছরই ভ্যাকসিনটি বাজারে আসবে বলে আশা করা যায়।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ১৭০ জন করোনা আক্রান্তকে টিকার প্রথম ডোজ দেওয়ার ২৮ দিন পর এর কার্যকারিতা শুরু হতে দেখা গেছে। ট্রায়ালের বিস্তারিত তথ্য-উপাত্তে দেখানো হয়েছে, সম্ভাব্য এ ভ্যাকসিন মৃদু থেকে মারাত্মক কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরি করতে সক্ষম। এছাড়া কোভিডের প্রতি সবচেয়ে সংবেদনশীল বয়স্কদের ওপর এটি ৯৪ শতাংশ কার্যকর। যেখানে বয়স্করা সাধারণত কোনও ভ্যাকসিনেই যথেষ্ট সাড়া দেন না।
এর আগে ভ্যাকসিনটির চূড়ান্ত ধাপের ট্রায়ালের প্রাথমিক ফলাফলের ভিত্তিতে মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারক এ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছিল, তাদের ভ্যাকসিনটি ৯০ শতাংশের বেশি কার্যকর। আর চলতি সপ্তাহে আরেক মার্কিন সংস্থা মডার্না দাবি করেছে, তাদের ভ্যাকসিন ৯৪ দশমিক ৫ শতাংশ কার্যকর।
গত বছরের শেষ নাগাদ বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর থেকেই গবেষকরা এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এরমধ্যে ফাইজারসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এক বছরের কম সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিন তৈরির পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা প্রায় শেষ করে ফেলেছে।








