বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলোকে অস্থির করে তুলছে বলে অভিযোগ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ও ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) নেতা শারদ পাওয়ার। এই দুই নেতার মধ্যে কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহারাষ্ট্রের সিনিয়র নেতা ও শারদ পাওয়ারের মুখপাত্র নওয়াব মালিক। সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার যেন হিড়িক পড়েছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতার তৃণমূল ছেড়ে নেতারা ভিড়ছেন কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপিতে। মেদিনীপুরে শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীসহ ৭ বিধায়ক। এদিন বিজেপিতে যোগদান করা ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যান্য দলের কিছু নেতা থাকলেও এর সিংহভাগই তৃণমূল কংগ্রেসের।
নওয়াব মালিক জানিয়েছেন, শারদ পাওয়ারের সঙ্গে আলোচনায় মমতা বন্দোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের আগে তার সরকারকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে বিজেপি। বিশেষ করে সম্প্রতি কলকাতার কাছে বিজেপি প্রধান জেপি নাড্ডার গাড়িতে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে দিল্লিতে তলব করার ঘটনা উল্লেখ করেন মমতা।
সাংবাদিকদের নওয়াব মালিক বলেন, ‘বিজেপি কিভাবে পশ্চিমবঙ্গকে অস্থির করে তুলতে চাইছে তা শারদ পাওয়ার ও মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আলোচনায় উঠে আসে। সরকারি কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার এবং রাজ্যে অধিকারের হস্তক্ষেপের মধ্য দিয়ে এই চেষ্টা চলছে। বিজেপি যেভাবে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করছে তা ঠিক নয়।’ তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দোপাধ্যায় ও শারদ পাওয়ার অন্য আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। প্রয়োজন পড়লে শারদ পাওয়ার পশ্চিম বাংলায়ও যাবেন।’
তৃণমূল কংগ্রেসের এক সিনিয়র নেতা জানান, কংগ্রেসের সময়কাল থেকেই শারদ পাওয়ার ও মমতা বন্দোপাধ্যায়ের মধ্যে আন্তরিক সম্পর্ক রয়ে গেছে।
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের মাত্র আর চার মাস বাকি রয়েছে। এর মধ্যে মমতা বন্দোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন তার সরকার এবং দল তৃণমূল কংগ্রেসকে দুর্বল করতে সব ধরনের ক্ষমতা ব্যবহারের চেষ্টা করছে বিজেপি। বিরোধী দলীয় বেশ কিছু মুখ্যমন্ত্রীও মমতাকে সমর্থন করছেন। এদের মধ্যে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ছাড়াও পাঞ্জাবের কংগ্রেস দলীয় মুখ্যমন্ত্রী অমিন্দর সিং, ভুপেশ পাল (ছত্তিশগড়) এবং অশোক গেহলতও (রাজস্থান) পুলিশ কর্মকর্তা বদলির কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। এই বদলিকে তারা রাজ্যের অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ বলে মনে করেন তারা।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেন, ‘বিজেপি একটি চিটিংবাজ দল, রাজনীতির জন্য তারা সবকিছু করতে পারে। বিজেপি’র রাজনীতি হলো তারা রাজনীতির জন্য যা কিছু বলতে পারে, সব মিথ্যার বেসাতি ছড়াতে পারে।’








