দ. কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের ২০ বছরের কারাদণ্ড বহাল

বিদেশ ডেস্ক
১৪ জানুয়ারি ২০২১, ১২:২০আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২১, ১২:২০
image

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন-হাই’কে দেওয়া ২০ বছরের সাজা বহাল রেখেছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। জুলুম ও ক্ষমতার অপব্যবহারে দোষী সাব্যস্ত পার্ককে শুরুতে এই মামলায় প্রায় ৩০ বছরের জেল দেয়া হয়েছিল। তবে ২০১৯ সালের জুলাই মাসে তার এই শাস্তিকে কমিয়ে ২০ বছর করা হয়। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট সেই সাজা বহাল রেখেছে। প্রসিকিউটররা শাস্তি কমিয়ে দেয়ার বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট ছিলেন পার্ক। ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় ২০১৭ সালে। তিনিই তার দেশে প্রথম গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট, যাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। তাকে আদালত ১৮০০ কোটি ওন বা এক কোটি ৭০ লাখ ডলার জরিমানা করেছিলেন। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট তাও বহাল রেখেছেন।

বিবিসি জানিয়েছে, তাকে প্রথমে আদালত প্রায় ৩০ বছরের জেল দিয়েছিল। জরিমানা করেছিল ২০০০ কোটি ওন। তবে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ পরে সেই জরিমানা কমিয়ে ১৮০০ কোটি ওন করে। একই সঙ্গে তার শাস্তি কমিয়ে দেয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছে তা চূড়ান্ত রায়।

২০১৮ সালে ১৮টি অভিযোগের মধ্যে ১৬টিতে তাকে অভিযুক্ত করা হয় পার্ককে। এর মধ্যে বেশির ভাগই ঘুষ ও জবরদস্তি সম্পর্কিত। আদালত রায় দেয় যে, তিনি ঘনিষ্ঠ বন্ধু চোই সুন-সিনের সঙ্গে মিলে দুর্নীতি করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি জায়ান্ট প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান স্যামসাং এবং রিটেইল চেইন লোটে’কে লাখ লাখ ডলার দিয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন কোম্পানিকে লোভনীয় চুক্তি করাতে বাধ্য করেন তিনি। এসব কোম্পানির মালিকানা চোইয়ের। এ ছাড়া তিনি চোই এবং তার মেয়েকে উপহার দিয়েছেন বিপুল অর্থ।

চোই-এর কাছে অতি গোপনীয় প্রেসিডেন্সিয়াল ডকুমেন্ট ফাঁস করার দায়েও অভিযুক্ত হয়েছেন পার্ক। এই চোই এবং পার্ক দু’জনে শৈশবের বন্ধু। ফলে দ্রুততার সঙ্গে পার্কের অতি আস্থাশীল ঘনিষ্ঠদের অন্যতম হয়ে ওঠেন চোই। কিন্তু তাদের এমন মাখামাখি সম্পর্ক জনগণের চোখে পড়ে যায়। পার্কের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার সুযোগে তিনি জাতীয় ইস্যুগুলোতে প্রভাব বিস্তার করতে থাকেন। এসব নিয়ে দীর্ঘদিন শুনানি হয়। রাজপথে পার্কের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ হয় মাসের পর মাস। শেষ পর্যন্ত ২০১৭ সালের মার্চে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে তিনি হন দেশটিতে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট এবং তাকে প্রথম অভিশংসিত করা হয়। অভিশংসিত হয়ে ক্ষমতা হারানোর পর পরই তাকে গ্রেফতার/ করা হয়।

/এফইউ/বিএ/
সম্পর্কিত
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম