মিয়ানমারে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ

বিদেশ ডেস্ক
০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৩:২৯আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৩:২৯

সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে মিয়ানমারের মূল শহর ইয়াঙ্গুনে সমাবেশ করেছে কয়েক হাজার মানুষ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, সেনাশাসন শুরুর পর এটাই দেশটিতে সবথেকে বড় বিক্ষোভ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে সেনাবাহিনী জনগণের সমাবেশ বন্ধ করার চেষ্টা করা সত্ত্বেও শনিবারের এই প্রতিবাদ দমন করা যায়নি।

গত ১ ফেব্রুয়ারি ভোরে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে দেশটির সেনাবাহিনী। এদিন অভিযান চালিয়ে রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি এবং ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের আটক করা হয়। রাজধানী নেপিডো ও প্রধান শহর ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় রাস্তায় টহল দিতে শুরু করে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। দেশজুড়ে ঘোষণা করা হয় এক বছরের জরুরি অবস্থা। অপরদিকে সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে মিয়ানমারে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন সু চি সমর্থকরা। এতে শামিল হয়েছেন বিভিন্ন পেশার মানুষ। পাশাপাশি আরও বিভিন্ন আন্দোলন-কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, শনিবার অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে মিয়ানমারের মূল শহর ইয়াঙ্গুনের সমাবেশ থেকে বিক্ষোভকারীরা ‘সামরিক স্বৈরশাসক, ব্যর্থ, ব্যর্থ’, ‘গণতন্ত্রের, জয়, জয়’ বলে স্লোগান দিতে থাকে। সে সময় নির্বাচিত নেতা অং সান সু চিসহ সেনাবাহিনী কর্তৃক আটককৃত অন্যদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এরআগে শুক্রবার ইয়াঙ্গুনের ড্যাগন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন কয়েক শ’ শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। সেসময় তারা প্রতীকীভাবে তিন আঙুলের স্যালুট প্রদর্শন করেন। ওই অঞ্চলের বিক্ষোভকারীরা কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের বিরোধিতা প্রকাশ করতে এ প্রতীক ব্যবহার করে থাকেন। মিন সিথু নামের এক শিক্ষার্থী ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘এ ধরনের সেনা কর্তৃত্বের অধীনে আমরা আমাদের প্রজন্মকে ভুগতে দেব না।’

শুক্রবার মিয়ানমারে আরও বেশ কিছু এলাকায় বিক্ষোভ হচ্ছে। ইয়াঙ্গুনসহ কোনও কোনও শহরের বাসিন্দারা বাড়িতে বসে রাত্রিকালীন বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। রাতে থালা-বাসন বাজিয়ে, বিপ্লবী গান গেয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তারা। কাউকে কাউকে দিনের বেলা ফ্ল্যাশ মব করতেও দেখা যাচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারীদের কেউ ছোট ছোট বিক্ষোভ আয়োজন করছেন, আবার কেউ কেউ ধর্মঘট পালন করছেন। অনেকে আবার লাল রিবনের মতো বিভিন্ন অবমাননার প্রতীক পরে কাজ করছেন। তবে শনিবার ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় সংঘটিত বিক্ষোভ মাত্রাগতভাবে স্বতন্ত্র।  

এদিকে সু চি সমর্থকদের বিরুদ্ধে ধর-পাকড় অভিযান ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার সকালে ইয়াঙ্গুনে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে এনএলডির শীর্ষস্থানীয় নেতা উইন হতেইনকে। বৃহস্পতিবার ফেসবুক বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারির পর শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দেশটির অন্যতম প্রধান ইন্টারনেট সরবরাহকারী টেলিনর নিশ্চিত করেছেন যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত টুইটার-ইনস্টাগ্রাম সাইট বন্ধ থাকবে।

সু চির বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। এসব অভিযোগে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রিমান্ডে থাকবেন সু চি।  এনএলডি’র একজন মুখপাত্র জানান, সু চির বিরুদ্ধে আমদানি-রফতানি আইনে অভিযোগ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বেআইনি যোগাযোগযন্ত্র রাখার অভিযোগও করেছে পুলিশ।

/এফইউ/বিএ/
সম্পর্কিত
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
সর্বশেষ খবর
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান