ভারতের পাঞ্জাবে পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে হামলার ঘটনায় পাকিস্তানি সশস্ত্র সংগঠন জয়েশ-ই-মোহাম্মদ সদস্যদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে শুরু থেকেই ধারণা করছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা। হামলাকারীদের একজনের ফোনকল যাচাইয়ের পরই সে ধারণা জোরালো হয়ে ওঠে।
শনিবার পাঠানকোটের বিমানঘাঁটিতে হামলার ১২ ঘণ্টা আগে পাঞ্জাবের সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ সালিন্দর সিং এর গাড়ি ছিনতাই হয়।গাড়িতে থাকা পুলিশ সদস্যদের বন্দি করে তাদের সেলফোনগুলো কেড়ে নেয়া হয়। সেই সেলফোনগুলো থেকে তাদের অনেকেই ইন্টারন্যাশনাল কল করে পাকিস্তানে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে।
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের দাবি, তারা জয়েশ-ই-মোহাম্মদের এক সদস্যের ফোন কল শনাক্ত করেছেন। সরকারি সূত্র জানায়, শনিবার রাত ১২টা ৩০ থেকে ভোররাত ৩টা ৩০ এর মধ্যে ওই ফোনটি থেকে বেশ কয়েকটি কল করা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গোয়েন্দা সংস্থার রেকর্ড করা ওই কথোপকথনে এক ব্যক্তিকে দক্ষিণ পাঞ্জাবের উচ্চারণে কথা বলতে শোনা যায়। তিনি তার মাকে ফোন করে বারবার বলেন, ‘আমি শহীদ হতে যাচ্ছি মা। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করবে।’
ওই ফোনকলে তার মায়ের কান্নার আওয়াজও শুনতে পাওয়া গেছে। এক পর্যায়ে কান্না সামলে মা ছেলের কাছে জানতে চান সে খেয়েছে কিনা।
এছাড়াও ওই ফোন থেকে আরও বেশ কয়েকটি ফোন গেছে। ধারণা করা হচ্ছে অভিযানের প্রস্তুতি চলার সময় ফোনগুলো করা হয়। এরমধ্যে একটি কলে জিজ্ঞেস করতে শোনা গেছে-সবকিছু নিয়ন্ত্রণে আছে?
উত্তরে বলা হয়-হ্যাঁ।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত থেকেই এক তথ্যের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ সতর্কতা জারি করা হয়। কেননা পাঞ্জাব পুলিশ জানায় পাঁচ সশস্ত্র ব্যক্তি পুলিশের একটি যান ছিনতাই করেছে। তখন থেকেই হামলার আশঙ্কায় ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার অজিত দোবাল পাঠানকোটে একটি বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করেন। আর তারই অংশ হিসেবে ফোন কলটি শনাক্ত করেছিল।
সূত্রঃ দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
/ইউআর/








