বিশ্ববরেণ্য চলচ্চিত্রকার ও বাঙালির গর্ব সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবর্ষ আগামী ২রা মে। আর সে দিনই ভারতের নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের পাঁচটি রাজ্যে ভোট গণনার দিন ধার্য করেছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন কলকাতার চলচ্চিত্র জগতের একাংশ।
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস টানা এক দশকের শাসনের পরও ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে, নাকি প্রথমবারের মতো বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার স্বাদ পাবে, সে প্রশ্নের উত্তর জানা যাবে ২ মে-তেই। তবে সেদিন সেই প্রবল রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবর্ষর মতো অবিস্মরণীয় একটি মাইলফলক নীরবে হারিয়ে যাবে, তার অনুগামী ও ভক্তদের আশঙ্কা সেখানেই।
পশ্চিমবঙ্গের নামী চিত্রনির্মাতা এবং 'ভূতের ভবিষ্যতে'র মতো সমাদৃত ছবির পরিচালক অনীক দত্ত ইতোমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়াতে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে লিখেছেন, 'ভোট গণনার দিন একদিন পিছিয়ে দেওয়া হোক'!
সাধারণত ভারতের নির্বাচন কমিশন যখন কোনও রাজ্যে ভোটের তফসিল স্থির করে, তখন সে রাজ্যের নানা ধর্মীয় বা সামাজিক উৎসব, ছাত্রদের পরীক্ষার সূচি এগুলো দেখেই নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করে থাকে। তবে এবারে পশ্চিমবঙ্গের তফসিল ঘোষণার ক্ষেত্রে তারা সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবর্ষ-র দিনটি বিবেচনায় রাখেনি, তা বোঝাই যাচ্ছে।
বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী সুকুমার রায় ও তার স্ত্রী সুপ্রভা দেবীর একমাত্র সন্তান সত্যজিৎ ১৯২১ সালের ২রা মে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সেই হিসেবে এ বছরের ২ মে তার জন্মশতবর্ষ।
'পথের পাঁচালী' ছবি দিয়ে বিশ্বের চলচ্চিত্রে তার জয়যাত্রার শুরু, তারপর ফিল্ম, সাহিত্য, শিল্প ইত্যাদি নানা ক্ষেত্রে যেভাবে তিনি একের পর এক কীর্তি স্থাপন করেছেন - তাতে সত্যজিৎ রায়কে গত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি বললেও অত্যুক্তি হয় না।
'সত্যজিৎ রায় দেশের একমাত্র চিত্রনির্মাতা যিনি লাইফটাইম অস্কারে ভূষিত হয়েছেন। আর নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন স্থির করতে গিয়ে সেই মানুষটার জন্মশতবর্ষটাই আমরা ভুলে গেলাম?', ফেসবুকে প্রশ্ন তুলেছেন কলকাতার সুপরিচিত অভিনেতা জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশন অবশ্য এই সব সমালোচনার জবাবে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে এই দাবির মুখে তারা ভোটের ফল ঘোষণার দিন পিছিয়ে দেওয়া হবে, তেমন কোনও ইঙ্গিতও নেই। এদিকে বাঙালির গর্ব সত্যজিৎ রায়ের প্রতি নির্বাচন কমিশনের এই অবজ্ঞা বা উদাসীনতার প্রতিবাদে ক্রমশ উত্তাল হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের নেট-দুনিয়া।
কলকাতার লেখক ও সাংবাদিক ঋজু বসু এই পটভূমিতেই ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, 'কেন, নির্বাচন কমিশন বাঙালিকে ভালবাসেন আর খোঁজখবর রাখেন বলেই তো ওই দিনটাকে (ভোটের) 'রায় দিবস' বেছেছেন!'
ফলে আগামী ২রা মে কেন 'সত্যজিৎ রায় দিবস' না-হয়ে 'ভোটের রায় দিবস' হবে - এই প্রশ্নই এখন কলকাতায় মুখে মুখে!









