ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত থেকে সোমবার ভোরে উৎপন্ন হওয়া ভূমিকম্প সম্পর্কে আগে থেকেই জানতে পেরেছিলেন বলে দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। কলকাতাভিত্তিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের কাছে কলকাতার ওই বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, খুব শিগগির যে একটা বিপর্যয় আসতে চলেছে তার আগাম আঁচ দিয়েছিল মালদহ ও মেদিনীপুর! একটা ভূমিকম্প যে আসছে, সেটা পাঁচ দিন আগেই টের পেয়ে গিয়েছিলেন কলকাতার ওই বিজ্ঞানীরা। তাঁদের আশঙ্কাকে সত্যি করেই সোমবার জোরাল ভূমিকম্পে হয়।
কিভাবে বিজ্ঞানীরা এই ভূমিকম্পের আগাম আন্দাজ করতে পেরেছিলেন সে সম্পর্কে আনন্দবাজারের কাছে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তারা। কলকাতার ইন্ডিয়া সেন্টার অব স্পেস ফিজিক্স (আইসিএসপি)-র প্রধান অধ্যাপক সন্দীপ চক্রবর্তী আনন্দবাজারকে জানান, ভূমিকম্পের আগেই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের আয়নোস্ফিয়ারের একেবারে নিচের স্তরে ব্যাপক আলোড়ন হয় গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর। এই আয়নোস্ফিয়ারের একেবারে নিচের স্তরটির নাম ‘ডি লাইন’। তিনি বলেন, ‘সাধারণত দিনের বেলায় সূর্য উঠলে আমাদের বায়ুমণ্ডলের আয়নোস্ফিয়ারে ইলেকট্রন কণার ঘনত্ব বেড়ে যায়। কিন্তু ভূমিকম্প হওয়ার এক সপ্তাহ আগে থেকেই বায়ুমণ্ডলের আয়নোস্ফিয়ারে ইলেকট্রনের সংখ্যা বা ঘনত্ব অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। তা সে রাত হোক বা দিন। ভূমিকম্পের এক সপ্তাহ আগে যখন ভূস্তরের টেকটনিক প্লেটের মধ্যে সংঘর্ষের প্রস্তুতি শুরু হয় তখনই ভূগর্ভে জমা বিপুল পরিমাণ শক্তি বেরিয়ে আসে নিষ্ক্রিয় র্যাডন গ্যাসের মাধ্যমে। ওই গ্যাসই বায়ুমণ্ডলের আয়নোস্ফিয়ারে ইলেকট্রনের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয় অস্বাভাবিক ভাবে। তার ফলে রেডিও সিগন্যালগুলোর মধ্যে প্রচণ্ড আলোড়নের সৃষ্টি হয়। সেই আলোড়ন মেপেই আমরা ভূমিকম্পের আগাম আঁচ করতে পেরেছি।’
তিনি আরও জানান, গত বছর নেপালের ভূমিকম্পেরও আগাম আঁচ করতে পেরেছিলেন তাঁরা। এ রাজ্যে মালদহ-মেদিনীপুরে রেডিও সিগন্যাল মাপার জন্য যে ভেরি লো ফ্রিকোয়ন্সি সেন্টার রয়েছে তারা ২৯ ডিসেম্বরেই রেডিও সিগন্যালে অস্বাভাবিক আলোড়ন লক্ষ্য করেছিলেন।
উল্লেখ্য, ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত থেকে উৎপন্ন হওয়া ওই ভূমিকম্প বাংলাদেশেও আঘাত হানে। সোমবার ভোর ৫টা ৭ মিনিটে এ ভূকম্পন অনুভূত হয়। হঠাৎ কম্পনে শেষ রাতে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এতে দৌড়ঝাঁপ করতে গিয়ে এবং উঁচু ভবন থেকে লাফ দিয়ে পড়ে শতাধিক মানুষের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে ঢাকা, লালমনিরহাট, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, জামালপুরে হার্টঅ্যাটাকে অন্তত সাতজন মারা গেছেন বলেও জানা গেছে।
/বিএ/








