করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন সরবরাহে বিলম্বের অভিযোগ এনে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে যুক্তরাজ্যের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকা। প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। সেরামের পক্ষ থেকে এই নোটিশ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, দ্রুত সংকটের অবসান হবে বলে তারা আশাবাদী।
অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য সেরামের উপর নির্ভর করছে পৃথিবীর অনেকগুলো দেশ। এদিকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে ভারত সরকার। ভারতকে প্রাধান্য দিয়ে তারপর বিদেশে ভ্যাকসিন পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে সেরাম ইনস্টিটিউট। এ নিয়েই তৈরি হয়েছে সংকট। সে কারণেই এই আইনি নোটিশ।
এ ব্যাপারে সেরামের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আদর পুনাওয়ালা ভারতের বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘ভারত সরকার এই আইনি নোটিশের বিষয়ে বিস্তারিত জানে। এটি গোপন একটি নোটিস, এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে পারব না। তবে সরকারের সাহায্যে আইনি জটিলতা কাটানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভারতে সরবরাহের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণেই অন্য দেশে সরবরাহে দেরি হচ্ছে। আশা করি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।’
পুনাওয়ালা বলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ ভ্যাকসিনের চাহিদাকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে আন্তর্জাতিক সরবরাহে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সবারই পরিস্থিতি বোঝা দরকার। ভারত সরকার দ্রুতই এ সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হবে বলে মনে করেন তিনি।
পুনাওয়ালা এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের প্রতি দুইটিতে একটি ভারতে প্রয়োগ করা হচ্ছে। এর বাইরেও ভ্যাকসিন অন্যান্য দেশে পাঠানোর ব্যাপারে যে স্থিতাবস্থা দিয়েছে সরকার, তা পুনরায় বিবেচনা করা উচিত। কারণ, ওই দেশগুলোতে তারা বাড়তি দামে করোনা ভ্যাকসিন বিক্রি করেছেন।
সাক্ষাৎকারে পুনাওয়ালা বলেন, সারা বিশ্বের মানুষের ভ্যাকসিন দরকার। কিন্তু, তারা ভারতের জনগণের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। এখন তাদের হাতে সারা বিশ্বে সরবরাহ করার মতো ভ্যাকসিন নেই। তিনি আরও বলেন, সেরাম ইনস্টিটিউট মাসে ৬০-৬৫ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন উৎপাদন করতে পারে। ইতোমধ্যে তারা ভারত সরকারের জন্য ১০০ মিলিয়ন ডোজ এবং রফতানির উদ্দেশ্যে ৬০ মিলিয়ন ডোজ করোনা ভ্যাকসিন উৎপাদন করে ফেলেছেন।
সেরামের উৎপাদন সক্ষমতা মাসে ১০০ মিলিয়ন ডোজে নিতে হলে, জুন মাসের মধ্যেই আরও তিন হাজার কোটি রুপি প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন আদর পুনাওয়ালা। সেরাম সিইও বলেন, এক ডোজ ভ্যাকসিনের বাজার মূল্য ১৫শ রুপি, কিন্তু সরকারের অনুরোধে ভর্তুকি দিয়ে মাত্র ১৫০ রুপিতে এক ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। তাই সরকারের উচিত তাদের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়া।








