সৌন্দর্য বর্ধনে ব্যবহৃত একটি পণ্যের বিজ্ঞাপন নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে থাইল্যান্ডে। বিজ্ঞাপনটিতে দাবি করা হয়, ফর্সা হলেই জয় সুনিশ্চিত। বর্ণবাদের অভিযোগে অনলাইনে তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে সিউল সিক্রেট নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ত্বকের রঙ ফর্সা করার ক্রিমের ওই বিজ্ঞাপনটি।
বিজ্ঞাপনটিতে ফ্যাকাশে গায়ের রঙের এক অভিনেত্রীকে দেখা যায়। তিনি হাসিমুখে বলেন, ‘গায়ের রঙ ফর্সা হলেই জয় সুনিশ্চিত।’ তিনি আরও বলেন ওই ক্রিম ব্যবহার না করলে শরীরের ফর্সা রঙ হারিয়ে যেতে পারে। তিনি এও ঘোষণা করেন গায়ের ফর্সা রঙই তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
তার পাশেই আরেক অভিনেত্রীকে দেখা যায় যিনি আড়চোখে তার দিকে চেয়ে রয়েছেন। পাশের ওই অভিনেত্রীকে কম্পিউটার গ্রাফিক্সের মাধ্যমে কালচে করে দেওয়া হয়েছে।
থাইল্যান্ডসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশেই গায়ের রঙ ফর্সাকারী পণ্যের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও এই বিজ্ঞাপনটি নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন দর্শকরা। থাইল্যান্ড থাম্মাসাত বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞানের অধ্যাপক ইউকতি মুকদাউইজিত্রা বলেন, ‘আমার মতে বিজ্ঞাপনটি নিতান্তই কুৎসিত- থাইল্যান্ডে এখনও এই ধরনের বিজ্ঞাপন তৈরি হয়- এ এক অবিশ্বাস্য ব্যপার।’
তিনি আরও বলেন, ‘থাইল্যান্ডে বহুদিন ধরেই ফর্সা রঙকে আভিজাত্যের প্রতীক মনে করা হয়। এখানে পশ্চিমের প্রভাবও বিদ্যমান। পশ্চিমাদের অনুকরণে সাদা হতে চাওয়ার এই প্রবণতা বেড়ে গিয়েছে।’
প্রসঙ্গত, থাইল্যান্ডে বর্ণবাদী বিজ্ঞাপন নিয়ে বিতর্ক এই প্রথম নয়। এর আগেও ২০১৩ সালে ডানকিন ডোনাটের বিজ্ঞাপনে মুখে কালো রঙ করা এক মডেলকে দেখা যায়। তা নিয়ে বিতর্ক উঠলে প্রতিষ্ঠানটি ক্ষমা প্রার্থনা করে বিজ্ঞাপনটি অপসারণ করে। একই বছর ইউনিলিভার ফর্সা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি প্রদান করার ঘোষণা দিয়ে সমালোচিত হয়। সূত্র সিএনএন
/ইউআর/বিএ/








