ভারতের পাঞ্জাবে, পাঠানকোটের বিমানঘাঁটিতে হামলার ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশি জঙ্গিদের সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনাকে মাথায় রেখেই তদন্ত চলছে; তদন্তকারী এক কর্মকর্তার বরাতে খবর প্রকাশ করেছে কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার।
শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) আনন্দবাজারে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়, কেষ্টপুরে পাসপোর্ট জালিয়াতি চক্র ধরতে গিয়ে বাগুইআটি থানা ও সিআইডি দুজনকে আটক করে ৯টি পাসপোর্ট উদ্ধার করে। বাজেয়াপ্ত করা পাসপোর্টের একটিতে সঞ্জীব কুমার নামের একজনকে আবিষ্কার করা হয় যার ঠিকানা পাঠানকোট। এরপর নড়েচড়ে বসে ভারতীয় গোয়েন্দারা। আটককৃত দুইজনকে জেরা করে গড়িয়ার বৈষ্ণবঘাটা বাইলেন থেকে হাফিজ নামে এক বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করা হয়।
শনিবার (৯ জানুয়ারি) আনন্দবাজারের খবরে দাবি করা হয়, ওই ঘটনায় আটক শেখ হাফিজের সঙ্গে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। এক তদন্তকারী অফিসারের বরাতে আনন্দবাজার দাবি করে, বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন -এর সঙ্গে হাফিজের যোগসূত্রের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। ঘটনার গুরুত্ব উপলব্ধি করে পুরো ঘটনার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়েছে সিআইডি-র হাতে। তবে আনন্দবাজারের খবরে জামায়াতুল মুজাহিদিনকে প্রথম বন্ধনীতে হুজি বলে উল্লেখ করা হয়েছে! যদিও হুজি জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের সংক্ষিপ্ত নাম।
আনন্দবাজার জানায়, ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত এক নারী সহ সাত জনকে গ্রেফতার করেছে বাগুইআটি থানা। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের এডিসিপি (বিমানবন্দর) শিবানী তিওয়ারি আনন্দবাজারকে জানিয়েছেন, হাফিজের কাছ থেকে ১১টি পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে আটটি পাসপোর্ট আসল। সেগুলি হয় চুরি গিয়েছিল অথবা হারিয়ে গিয়েছিল। এডিসিপি বলেন, ‘এত আসল পাসপোর্ট ওই ব্যক্তির কাছে কী করে এল, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
আনন্দবাজার জানিয়েছে, হাফিজের কাছে পাওয়া পাসপোর্টগুলির বেশির ভাগই উত্তর ভারতের ঠিকানার। তার মধ্যে একটি পাসপোর্টে সঞ্জীব কুমার নামে পঞ্জাবের পঠানকোটের এক বাসিন্দার উল্লেখ আছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, উত্তর ভারতের কোনও বড় চক্রের সঙ্গে হাফিজের যোগাযোগ আছে। চক্রটি নকল পাসপোর্ট তৈরির জন্য আসল পাসপোর্ট পাচার করে। সেই সব আসল পাসপোর্ট দুষ্কৃতীদের হাতে কী ভাবে পৌঁছায়, হাফিজকে জেরা করে তার হদিস পেতে চাইছে সিআইডি।
আনন্দবাজারের খবরে দাবি করা হয়, হাফিজকে জেরা করে বিধাননগর পুলিশ জানতে পেরেছে, তিনি আদতে বাংলাদেশের চট্টগ্রামের বাসিন্দা। সাত বছর আগে মুর্শিদাবাদ হয়ে প্রথমে উত্তর ২৪ পরগনার গেদেতে এসে বসবাস শুরু করেন। তার পরে প্রথমে মধ্যমগ্রাম এবং পরে নেতাজিনগরের বৈষ্ণবঘাটা বাইলেনে উঠে আসেন। তদন্তকারীরা আন্দবাজারকে জানিয়েছেন, হাফিজ মূলত বাংলাদেশ থেকে এ দেশে আসা লোকজনকে জাল পাসপোর্ট বানিয়ে দিয়ে তাদের বিদেশযাত্রার ভিসারও ব্যবস্থা করে দিতেন। নিজের ভ্রমণ সংস্থার অফিসের আড়ালে তিনি এই কারবার চালাতেন।
এক তদন্তকারী অফিসার আনন্দবাজারকে জানিয়েছেন, ‘হাফিজ বাংলাদেশিদের ভারতীয় পাসপোর্স করে দিয়ে বিদেশে পাঠাত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ হাফিজ ধরা পড়ার পরেও জাল পাসপোর্ট তৈরির জন্য তার ফোনে বাংলাদেশ থেকে ফোন এসেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। তাদের দাবি, কম্পিউটার থেকে অজস্র বাংলাদেশির ঠিকানা, ছবিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই সব ঠিকানা সত্যি না ভুয়া, তা জানতে নম্বর ধরে ধরে ফোন করা হচ্ছে।
/বিএ/








