২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে যে স্টাইলে হামলা হয়েছিলো, সেই স্টাইলে ২০১৬ সালে ইউরোপে একইদিনে বেশ কয়েকটি জায়গায় হামলা হওয়ার আশঙ্কা করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তাদের আশঙ্কা, ২০১৫ সালের শেষ দিকে প্যারিসে যে হামলা হয়েছে তা ইউরোপে বড় ধরনের ওই হামলার সূচনা মাত্র। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের এমন শঙ্কা আর মতামত নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালের নভেম্বরে প্যারিসে কালাশনিকভ রাইফেল নিয়ে কয়েকজনের একটি দল যেভাবে গোটা ফ্রান্সকে আতঙ্কিত করে তুলেছিল; তার চেয়েও বড় কিছু ইউরোপের জন্য অপেক্ষা করছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে বলেন, ‘আমরা ইউরোপীয় নাইন ইলেভেনের দিকে যাচ্ছি। একইদিনে বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন জায়গায় হামলা হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। আর সেটি হবে একটি সমন্বিত উদ্যোগের মধ্য দিয়ে। আমরা জানি, সন্ত্রাসীরা এ ধরনেরই পরিকল্পনা করছে।’
তার দাবি, আইএস সদস্যরা ইউরোপীয়দের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে নিজ নিজ দেশে হামলা চালানোর জন্য ফেরত পাঠানো হচ্ছে। সিরিয়া আর ইরাক থেকে ফেরত আসা বেশ কয়েকজন জিহাদিকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে সে উদ্বেগ জোরালো হয়ে উঠেছে বলেও সতর্ক করেন ওই কর্মকর্তা।
প্যারিসের হামলা আসন্ন হামলার রিহার্শেল মাত্র!
অতীতের হামলার চেয়ে বর্তমান সময়ের হামলাগুলোর ধরন আলাদা উল্লেখ করে ফ্রান্সের গোয়েন্দা বিভাগ ডিজিএসই’র সাবেক বিশ্লেষক ইভস টটিগনন বলেন, ‘অতীতেও বিভিন্ন সময়ে ইউরোপে হামলা হয়েছে কিংবা হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে। তবে সেসময় কেবল সশস্ত্র গোষ্ঠী আল কায়েদারই তৎপরতা ছিল। কিন্তু ২০১৬ সালে এসে সে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। আমি জানি, ইউরোপীয় দেশগুলো এখন এ তত্ত্ব মাথায় রেখে কাজ করছে।’
প্রয়োজন দ্রুত তৎপরতা
এ ধরনের হামলাকারীরা সাধারণত নিজেদের মৃত্যুর পরোয়া করে না। আর এ ধরনের শত্রুকে মোকাবেলা করার জন্য দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। জিআইজিএন পুলিশের প্রধান কর্নেল হুবার্ট বনিউ বলেন, ‘সাধারণত হামলা মোকাবেলা বাহিনী হস্তক্ষেপ করতে দেরি করে ফেলে। এ সময়টুকু আমাদের কমিয়ে আনতে হবে।’
১৩ নভেম্বর প্যারিসের কনসার্ট হলে হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, 'বাটাকলানে ৯০ জনকে হত্যা করতে হামলাকারীদের মাত্র ২০ মিনিট সময় লেগেছে। অন্যদিকে কনসার্ট হলে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করতে পুলিশের সময় লেগেছে আড়াই ঘণ্টা; কারণ তারা জিহাদিদের অবস্থান এবং ভবনের নকশা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করছিল।'
সন্ত্রাস দমন কর্মকর্তার মতে ‘ওই ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতার ব্যাপারে যে কেবল কর্তৃপক্ষ শিক্ষা নিয়েছে তা নয়, আইএসও শিক্ষা নিয়েছে। তারা ধরেই নিয়েছে যে হামলার পর অভিযান শুরু হতে আড়াই ঘণ্টা লাগে। তারা এও জেনেছে যে বিস্ফোরকগুলা খুব একটা ভালো ছিল না, তা পরিবর্তন করা প্রয়োজন।’
আর এসব শিক্ষার মধ্য দিয়ে হামলাকারীরা নিজেদের আরও সমৃদ্ধ করে তুলতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন ওই বিশেষজ্ঞ। সূত্র: এএফপি
/এফইউ/বিএ/








