১০ বছর ধরে বিদ্যুৎ বিল দেননি নেপালের প্রাক্তন রাজা

বিদেশ ডেস্ক
১৪ জানুয়ারি ২০১৬, ২২:৩৪আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০১৬, ২২:৪২
image

রাজতন্ত্রের অবসান হয়েছে। তবে রাজার স্বভাব যায়নি। নেপালের শেষ রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহ’র কথা বলছি। ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন ২০০৮ সালে। বিদ্যুৎ বিল দেওয়া বন্ধ করেছেন তারও আগে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গত ১০ বছর ধরে বিদ্যুতের বিল দেননি তিনি। এতে নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের (এনইএ) লোকসান হয়েছে ভারতীয় টাকায় ৭০ লাখ রূপি।

২০০৮ সালে নেপালে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে। এ সময় সাবেক রাজপরিবারের সব সম্পত্তি রাষ্ট্রীয়করণ করা হয়। তখন রাজপ্রাসাদ নারায়ণহিতি রয়্যাল প্যালেস ছেড়ে নাগরজুনা প্যালেসে ওঠেন জ্ঞানেন্দ্র। রাজত্ব ছাড়ার আগে থেকেই সেই প্যালেসের বিল দেন না জ্ঞানেন্দ্র। নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ (এনইএ) জানিয়েছে, ১০ বছর ৭ মাস সেই ভবনের বিল দেননি তিনি।

  নেপালের সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্র

নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের (এনইএ) সহকারী পরিচালক মুকুন্দ মান চিত্রকর সংবাদমাধ্যমকে জানান, জ্ঞানেন্দ্রর বর্তমান আবাস সেই  নগরজুনা প্যালেসে বারবার এনইএর পক্ষ থেকে বকেয়া বিল-সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানকার কর্মীরা চিঠি গ্রহণ করেন না। তাঁদের কথা, যেহেতু সাবেক রাজপরিবারের সব সম্পত্তি এখন সরকারের, তাই এই বিল দেওয়া সরকারের দায়িত্ব।

নগরজুনা প্যালেসের কর্মীরা চিঠি গ্রহণ না করায় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ নির্মল নিবাস নামের আরেকটি প্যালেসের দ্বারস্থ হয়। ২০০১ সালে রাজা বীরেন্দ্র রহস্যজনকভাবে সপরিবারে নিহত হওয়ার আগে সহোদর জ্ঞানেন্দ্র এই প্যালেসে থাকতেন। তবে জ্ঞানেন্দ্রর ব্যক্তিগত সচিব সাগর রাজ তিমিলসিনা দাবি করেন, এই বিল পরিশোধের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের, নগরজুনা প্যালেসের নয়। ২০০৮ সাল পর্যন্ত রাজপরিবারের সদস্যরা যেসব প্যালেসে ছিলেন সেগুলোর সব ধরনের বিল ও শুল্ক দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়ার নিয়ম।

উল্লেখ্য, নেপালের বিদ্যুৎ আইন অনুযায়ী কোনো গ্রাহক যদি দুই মাস বিল বকেয়া রাখেন, তাহলে তাঁর বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। এরপরও যদি কোনো গ্রাহক একনাগারে ছয় মাস ধরে বিল দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তি (যেমন জমি, বাড়ি) বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। তাঁর পরের তিন প্রজন্মও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন।

জ্ঞানেন্দ্রর ক্ষেত্রে কেন আইন প্রযোজ্য হয়নি, জানতে চাইলে (এনইএ) সহকারী পরিচালক চিত্রকর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, জ্ঞানেন্দ্র একজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি এবং সাবেক রাজা। তাই বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। চিত্রকর বলেন, ‘তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার চেয়ে আমরা বরং সম্ভব হলে বকেয়া বিল আদায়ের চেষ্টা করব।’ এবার তারা প্রধানমন্ত্রীর দফতরের দ্বারস্থ হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, আইবিএন

/বিএ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম