আইএসের সাংগঠনিক বিস্তৃতি, বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর সহিংসতা এবং সিঙ্গাপুরে আটক হওয়া বাংলাদেশিদের পাঠচক্রের মধ্যকার সংযোগ তুলে ধরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সিঙ্গাপুরের সংবাদমাধ্যম স্ট্রেইট টাইমস। এর আগে বুধবারের প্রতিবেদনে তারা ২৭ জন বাংলাদেশিকে আটক এবং তাদের মধ্যে ২৬জনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর কথা জানায়।
স্ট্রেইট টাইমসের বৃহস্পতিবারের খবরে বলা হয়, সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ মারাত্মক রুপ ধারণ করার পর ২০১৩ সালে ইরাকেও নিজেদের অভিযান বিস্তৃত করে সশস্ত্র সুন্নিপন্থী সংগঠন আইএস। একইসময়ে, বাংলাদেশের ইসলামপন্থী সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা পুলিশ ও সংখ্যালঘুর ওপর হামলাসহ নানা সহিংসতা চালায়। ওই বছরেই, বাংলাদেশের ওই নির্মাণ শ্রমিকেরা সিঙ্গাপুরে বসে এসব সহিংসতা নিয়ে পাঠচক্র চালাতো বলে দাবি করেছে স্ট্রেইট টাইমস। স্ট্রেইট টাইমস বলছে, নিজেরা অস্ত্র হাতে তুলে নেবে কিনা সে ব্যাপারেও আলোচনা করত পাঠচক্রের সদস্যরা। আর গত বছরের শেষে, পাঠচক্রে যোগ দেওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়ে যায়।
সিঙ্গাপুরে আটক ২৭ বাংলাদেশি নাগরিক জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য বলে বুধবার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাহবুব উজ জামান। আটককৃতদের মধ্যে ২৬ জনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর কথাও জানিয়েছেন তিনি। আর স্ট্রেইট টাইমস বলছে, তারা সেখানে বসে বাংলাদেশে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না।
বুধবার স্ট্রেইট টাইমস এর খবরে বলা হয়, জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের (আইএস) অনুগত ২৭ বাংলাদেশিকে আটক করেছে সে দেশের পুলিশ। গত ১৬ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের আটক করা। ওই সংবাদমাধ্যমের দাবি, এদের মধ্যে ২৬ জন একটি চরমপন্থাভিত্তিক পাঠচক্র চালাতো। তারা নির্মাণশিল্পে কাজ করতেন। তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
আটককৃত অপরজন ওই পাঠচক্রের সদস্য না হলেও তার কাছে চরমপন্থায় জড়িত থাকার আলামত পাওয়া গেছে। তিনি অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে সিঙ্গাপুরের কারাগারে রয়েছেন। সাজার মেয়াদ শেষ হলে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
নিউজ এশিয়ার খবরে বলা হয়েছে, ওই ২৬ বাংলাদেশি নিয়মিত সাপ্তাহিক ভিত্তিতে পাঠচক্র চালাতেন। সেখানে তারা চরমপন্থী ধারণা ও মতামত নিয়ে আলাপ-আলোচনা করতেন। এ সংক্রান্ত বিভিন্ন বইপত্রও বিনিময় করতেন তারা। সিঙ্গাপুরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে নিউজ এশিয়ার খবরে বলা হয়, সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর জন্য তারা সিঙ্গাপুরে থাকা বাংলাদেশি জাতীয়তার লোকজনকে প্রভাবিত করার চেষ্টাও করছিলেন।
সিঙ্গাপুরের তদন্ত সূত্রের বরাতে নিউজ এশিয়া জানিয়েছে, ওই ২৬ জনের অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে জেহাদি কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। একইসঙ্গে তাদের ইচ্ছে ছিলো, বাংলাদেশে ফিরে এসে সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র জেহাদি কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়া। সিঙ্গাপুরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে নিউজ এশিয়া জানায়, ইসলামিক দল ও নেতাদের ওপর বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ সরকারের ওপর ক্ষোভও প্রকাশ করেন আটককৃতরা। সূত্র: স্ট্রেইট টাইমস
/এফইউ/বিএ/








