চাকরির সময়সীমা বাড়ানোর গুঞ্জনকে নাকচ করে দিয়ে নির্দিষ্ট সময়েই অবসরে যাবেন বলে ঘোষণা দিলেন পাকিস্তানের সেনা প্রধান রাহিল শরিফ। সোমবার এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেন তিনি। আর এর মধ্য দিয়ে ১০ মাস পর রাহিলের স্থলাভিষিক্ত কে হবেন তা নিয়ে বোধহয় এবার পাকিস্তান সরকারের ভাবার সময় হলো।
সোমবার রাহিল শরিফের ৪৩ শব্দের বিবৃতিকে উদ্ধৃত করে টুইট করেন এক সেনা মুখপাত্র। বিবৃতিতে রাহিল বলেন, ‘আমি সময়সীমা বাড়ানোতে বিশ্বাসী নই এবং সময়মতোই অবসরে যাব।’
তিনি চলে গেলেও সন্ত্রাস ও চরমপন্থাবিরোধী অভিযানে কোনও প্রভাব পড়বে না বলে বিবৃতিতে আশ্বস্ত করেন রাহিল। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের মুল উৎপাটনের জন্য আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। পাকিস্তানের জনস্বার্থ রক্ষাই চূড়ান্ত লক্ষ্য আর তা যেকোনও মূল্যেই রক্ষা করা হবে।
২০১৩ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন রাহিল শরিফ। তিন বছরের দায়িত্ব শেষে চলতি বছরের নভেম্বরে তার অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে সেনাপ্রধানের মেয়াদ বাড়তে পারে বলে সম্প্রতি গুঞ্জন ওঠে। রাহিল শরিফের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের লাহোর রেজিস্ট্রিতে একটি পিটিশনও দায়ের করা হয়। এমন অবস্থায় চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর ইচ্ছে নেই বলে ঘোষণা দিলেন রাহিল শরিফ।
সময়মতো অবসরে যাবেন বলে এতো আগে নিশ্চিত করতে অবশ্য সেনাপ্রধানদের দেখা যায়নি। রাহিল শরিফ যদি সময়মতো অবসরে যান তবে তিনিই হবেন দুই দশকের মধ্যে পাকিস্তানের প্রথম কোনও সেনাপ্রধান যিনি সময়মতো অবসরে যাবেন। এর আগে তার পূর্বসূরী জেনারেল আশফাক কায়ানি এবং জেনারেল পারভেজ মোশাররফের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। আর জেনারেল জাহাঙ্গীর কেরামতকে আগেই অবসরে পাঠানো হয়েছিল।
২০১৪ সালে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে তালেবানবিরোধী জার্ব ই আজাব অভিযান শুরু হয় রাহিলের নেতৃত্বে। অভিযানটি এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া করাচিতে জঙ্গিবিরোধী অভিযান পরিচালনা এবং শহরটি শান্ত করার ক্ষেত্রেও তিনি ব্যাপক প্রশংসিত। পাকিস্তানের সরকার আর তালেবানের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু প্রচেষ্টার স্থপতিও রাহিল।
রাহিল শরিফের সময়মতো অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর সরকারের তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে একে স্বাগত জানিয়েছে বিরোধী দলগুলো। সূত্র: ডন
/এফইউ/








