বাংলাদেশে কোভিড ১৯-এ মৃতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও)। বৃহস্পতিবার সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেলের পর্যালোচনার ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে ডব্লিউএইচও। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু বাংলাদেশে নয় বরং বিশ্বজুড়েই কোভিডে মৃতের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে ঢের বেশি। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যেখানে এ সংখ্যা পাঁচ গুণ বেশি সেখানে দুনিয়াজুড়ে এ সংখ্যা বিভিন্ন দেশের সরকারের প্রকাশিত সংখ্যার চেয়ে গড়ে তিন গুণ বেশি।
বৃহস্পতিবার (৫ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, টানা ১৪ দিন বাংলাদেশে করোনায় সংক্রমিত হয়ে মারা যাননি। ফলে মৃতের সংখ্যা রয়েছে আগের মতোই ২৯ হাজার ১২৭। আর ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত এ সংখ্যা ছিল ২৮ হাজার ৭২ জন। তবে ডব্লিউএইচও বলছে, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের করোনায় অন্তত ৮৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
সংস্থাটি বলছে, কোভিডের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার থেকে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী করোনায় এক কোটি ৪৯ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ সংখ্যা বিভিন্ন দেশের সরকারি হিসাবের চেয়ে ৯৫ লাখ বেশি। ওই সরকারি হিসাবে বিশ্বব্যাপী করোনায় মৃতের সংখ্যা ৫৪ লাখের কিছু বেশি ছিল।
প্রতিবেদনে সরকারিভাবে ১০ হাজারের বেশি মৃত্যু দেখানো হয়েছে—এমন ১০টি দেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ তালিকায় প্রথমেই রয়েছে মিসর। দেশটিতে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা ১১ দশমিক ৬ গুণ বলে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারতে মৃতের প্রকৃত সংখ্যা সরকারিভাবে প্রকাশিত সংখ্যার চেয়ে ৯ দশমিক ৯ গুণ বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালিকায় তৃতীয়, চতুর্থ স্থানে রয়েছে যথাক্রমে পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়া। আর পঞ্চম স্থানে থাকা বাংলাদেশে মৃতের প্রকৃত সংখ্যা সরকারিভাবে প্রকাশিত সংখ্যার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।
করোনা মহামারি এবং এর পরোক্ষ প্রভাবে এই ‘বাড়তি মৃত্যু’র ঘটনা ঘটেছে। এখানে পরোক্ষ প্রভাব বলতে মূলত করোনাকালে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়া অন্যান্য রোগীদের বোঝানো হয়েছে।









