সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে ওমরাহ হাজিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চারটি বোয়িং ৭৪৭ বিমান ভাড়া করেছে পাকিস্তানের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বিমান সংস্থা পিআইএ’র কর্তৃপক্ষ। বেসরকারিকরণের উদ্যোগের বিরোধিতা করে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের ধর্মঘটের কারণে গত তিনদিন ধরে সংস্থাটির সব অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিআইএ’র একজন মুখপাত্র জানান, সৌদি এয়ারলাইন্সের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে। এয়ারলাইন্সটির বোয়িং বিমানগুলো শুক্রবার জেদ্দা থেকে প্রায় দুই হাজার হাজিকে করাচি ও ইসলামাবাদে ফিরিয়ে আনবে।
বিমানগুলো জেদ্দায় ফিরে যাওয়ার সময় একই সংখ্যক হজযাত্রীকে ওমরাহ হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে নিয়ে যাবে।
একইসঙ্গে ইউরোপ, আমেরিকা ও কানাডা অভিমুখী এবং এসব গন্তব্য থেকে পাকিস্তানমুখী যাত্রীদের পরিবহনের জন্য ইত্তিহাদ এয়ারওয়েজ ও টার্কিশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
এদিকে, চলমান আন্দোলনের একপর্যায়ে মঙ্গলবার করাচি বিমানবন্দরে সহিংস বিক্ষোভের সময় গুলিতে দুই প্রতিবাদকারী নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে। ওই ঘটনার দায় নিয়ে এরইমধ্যে পিআইএ-এর চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন।
অন্যদিকে, করাচিতে পিআইএ কর্মীদের জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটির (জেএসি) অন্তত চার নেতা ‘রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ’ রয়েছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, মঙ্গলবার পুলিশের সঙ্গে বিবাদে জড়ানোর পর ‘সরকারি সংস্থার’ লোকজন তাদের তুলে নিয়ে গেছে। আন্দোলন দমন করতেই এটা করা হয়েছে। নিখোঁজ পিআইএ নেতাদের মধ্যে জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটির প্রেসিডেন্ট হেদায়েতুল্লাহ খান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জামির চান্দিও’র মতো নেতারাও রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ইসলামাবাদের বেনজির ভুট্টো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, লাহোর আল্লামা ইকবাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং পেশোয়ারের বাচা খান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে সব ধরনের ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। পাইলটরা কোনও বিমান চালাতে চাইছেন না।
যাত্রী ভোগান্তি কমাতে পাকিস্তানের বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ বেসরকারি বিমান বিমান সংস্থা এয়ার ব্লু’কে লাহোর, করাচি ও ইসলামাবাদ থেকে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। সূত্র: ডন।
/এমপি/








