বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষে যুগে দিন দিন আরও ছোট হয়ে আসছে পৃথিবী। আর মানুষকে আরও বেশি পরিমাণে পরস্পরের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুক। মানুষে মানুষে সামাজিক দূরত্ব ৬ ডিগ্রি; প্রচলিত এই তত্ত্বকে মিথ্যে প্রমাণ করে ফেসবুক বলছে এই ব্যবধান ৩.৫৭ ডিগ্রি। এভাবে আড়াই ডিগ্রির ব্যবধান কমিয়ে দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগের ওই জনপ্রিয় মাধ্যম।
‘ডিগ্রি অব সেপারেশন’ এমন একটি ধারণা যা দেয় মানুষে মানুষে সামজিক দূরত্ব পরিমাপ করা হয়। ১৯৯০ সালে জন গুয়েরির এক নাটক ‘সিক্স ডিগ্রিজ অব সেপারেশন’ এর মধ্য দিয়ে ধারণাটি জনপ্রিয় হয়। এই ধারণা অনুযায়ী পৃথিবীর সব বস্তু এবং মানুষ পরস্পরের থেকে মাত্র ৬ ডিগ্রির দূরত্বে অবস্থান করে। যেমন ধরা যাক, আপনি আপনার বাবা-মা-বন্ধুকে দেখেছেন, তাদের সঙ্গে আপনার ব্যবধান ১ ডিগ্রি। আপনার বাবা তার বন্ধুকে দেখেছেন, কিন্তু আপনি দেখেননি। তাই আপনার বাবার সঙ্গে তার বন্ধুর ব্যবধান ১ ডিগ্রি হলেও আপনার সঙ্গে তার ব্যবধান দুই ডিগ্রি। কিন্তু এভাবে যোগ করে গড় করলে পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে প্রত্যেক মানুষের ব্যবধান ছয়ের বেশি হবে না, এটাই ওই তত্ত্বের মূল কথা। ২০০৮ সালে মাইক্রোসফটের গবেষকরা জানান, বিশ্বের জনসংখ্যা যখন ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ছিল তখন গড়পড়তা ঘনিষ্ঠ বা কাছাকাছি থাকার এ প্রবণতা ছিল মাত্র ৬-ডিগ্রির মতো।
তবে প্রচলিত এই তত্ত্বকে চ্যালেঞ্জ করেছে ফেসবুক। ফেসবুকের ‘ফ্রেন্ডস ডে’ অপশনে দেখা যায়, তার সম্পর্কে আগে যতটা ভাবা হয়েছিল তিনি তার চাইতে ৪০ দশমিক ৫ শতাংশ ঘনিষ্ঠ বা কাছাকাছি। বর্তমানে ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ফেসবুক গ্রাহকের গ্রাফে দেখা যায়, দূরত্ব কমে এখন তা ৩.৫৭ ডিগ্রিতে দাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এই দূরত্ব আরও কম। সেখানে পরস্পরের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার গড় হচ্ছে ৩ দশমিক ৪৬ ডিগ্রি।
গতবছর ফেসবুক অ্যাকাউন্টগুলোর ওপর পিউ রিসার্চ সেন্টারের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ৭২ শতাংশেরও বেশি বয়স্ক মানুষ অনলাইনে অ্যাক্টিভ থাকেন। বয়স্ক লোকজনও একই প্ল্যাটফর্মে আসায় মানুষে মানুষে দূরত্ব কমছে।
২০১১ সালে কর্নেল ইউনিভার্সিটি, দ্য ইউনিভার্সিটি অব মিলান এবং ফেসবুকের গবেষকরা দেখতে পান যে, ৭২১ মিলিয়নের বেশি ব্যবহারকারীর মধ্যে এটা ছিল ৩ দশমিক ৭৪। খুব পরিচিত মাত্র ১০০ বন্ধুর সঙ্গে যদি আপনি গড়ে ১.৪ বার করে কথা বলেন, তখনও আপনি এটা অনুধাবন করতে পারবেন না যে, পৃথিবীটা আসলে অনেক ছোট। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
/এমপি/বিএ/








