কথিত রাষ্ট্রদ্রোহিতায় অভিযুক্ত জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) ছাত্র সংসদের সভাপতি কানহাইয়া কুমারের জামিন আবেদনের শুনানি পিছিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। আগামী ২৯ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন, কানহাইয়ার জন্য আদালত চত্বরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ওই ছাত্রনেতার ওপর যেন কেউ হামলা চালাতে না পারে, সেজন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
তবে দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, তারা কানহাইয়ার জামিন আবেদনের বিরোধিতা করবে। পুলিশ কমিশনার বিএস বাসির যুক্তি দেখিয়েছেন,জামিনে মুক্তি পেলে কানহাইয়া সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারেন। তদন্তেও প্রভাব ফেলতে পারেন তিনি। জেএনইউ আন্দোলনের বিষয়ে তদন্তের কী অগ্রগতি হলো, দিল্লি হাইকোর্টে সে বিষয়ে ‘স্ট্যাটাস রিপোর্ট’ দিয়েছে পুলিশ।
এদিকে কানহাইয়ার আইনজীবী কপিল সিবাল বলেছেন, ‘পুলিশের উপস্থাপিত স্ট্যাটাস রিপোর্টে কানহাইয়া ভারত-বিরোধী স্লোগান দিয়েছে, এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আর এর ওপর ভিত্তি করেই আমি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কানহাইয়ার জামিনের আবেদন করছি।’
উল্লেখ্য, গতকাল (মঙ্গলবার) রাত ১১টা ৪০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে এসে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন উমর খালিদ এবং অনির্বাণ ভট্টাচার্য। এর আগে মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্ট কথিত রাষ্ট্রদ্রোহিতায় অভিযুক্ত ওই দুই শিক্ষার্থীকে অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তাদের আত্মসমর্পণ করতে বলেন। আজ (বুধবার) তাদের আদালতে হাজির করা হবে।
উল্লেখ্য,৯ ফেব্রুয়ারি জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ ওঠে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। দেশদ্রোহিতার মূল অভিযোগ রয়েছে ৬ ছাত্রের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে গত ১২ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার হন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সভাপতি বামপন্থী ছাত্রনেতা কানহাইয়া কুমার। দেশদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত রামা নাগা, আশুতোষ কুমার এবং অনন্ত প্রকাশ এখনও আত্মসমর্পণ করেননি। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেই রয়েছেন। তাদেরকে কোনওভাবে আত্মসমর্পণ করানো যায় কি না, দিল্লি পুলিশ সেই চেষ্টা করছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। সূত্র: এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া।
/এসএ/বিএ/








