উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন ক্ষুদে পরমাণু বোমার আরও পরীক্ষা চালানোর জন্য দেশটির সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ শুক্রবার এ খবর দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া যখন বিশাল যৌথ সামরিক মহড়া চলাকালে এ খবর দিলো কেসিএনএ।
এর আগে বুধবার একটি পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনকালে কিম জং-উন ক্ষুদে পরমাণু বোমা তৈরির দাবি করেন। এ জাতীয় বোমা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে বসানো যায়।
কিমের তার বক্তব্যের সমর্থনে বেশকিছু ছবিও প্রকাশ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তবে এসব ছবি থেকে এ দাবির সত্যতা নিরূপণ করা সম্ভব নয়।
শুক্রবার কেসিএনএ জানিয়েছে, নতুন তৈরি ক্ষুদে পরমাণু বোমার ধ্বংস ক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখার জন্য কিম এসব বোমার আরও পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিবিসি বলছে, পিয়ংইয়ং-এর ক্ষুদে পরমাণু বোমা তৈরির দাবি যদি সত্য হয়, তাহলে তা দক্ষিণ কোরিয়া ও তাদের মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তবে পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা দেশটির এ ধরনের প্রযুক্তি সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
পিয়ংইয়ং-এর সরকারি সংবাদমাধ্যমে অবশ্য এর আগেও একই ধরনের দাবি করা হয়েছে। তবে কিম জং-উনের মুখ থেকে এ ধরনের ঘোষণা এটাই প্রথম।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের জন্য চাপ দিয়ে আসছে। এ জন্য আলোচনা থেকে শুরু করে অবরোধ আরোপ পর্যন্ত নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতে নিভৃতকামী কমিউনিস্ট দেশটির অবস্থানের বিশেষ পরিবর্তন নেই। তারা পরমাণু অস্ত্রের সম্ভার বাড়িয়েই চলেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া চাইছে, উত্তর কোরিয়া নিজে থেকে শর্তহীনভাবে তার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগ করবে। কিন্তু পিয়ংইয়ং বারবার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগ করার কোনও ইচ্ছা তার নেই।
উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক পারমাণবিক পরীক্ষা ও দূরপাল্লার রকেট উৎক্ষেপণকে কেন্দ্র করে দেশটির সঙ্গে প্রতিবেশী ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরমধ্যেই ৭ মার্চ শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়া। এ মহড়াকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ায় পারমাণবিক হামলার হুমকি দেয় উত্তর কোরিয়া।
কোরিয়ান পিপল’স আর্মির সুপ্রিম কমান্ডের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যদি এ মহড়া বন্ধ করা না হয়, তাহলে ওই দুই পরস্পর মিত্র দেশে উপর্যুপরি পারমাণবিক হামলা চালানো হবে।
উত্তর কোরিয়ার ন্যাশনাল ডিফেন্স কমিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, শত্রুদের যৌথ সামরিক মহড়াকে স্পষ্টতই পরমাণু যুদ্ধের অনুশীলন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
গত ৬ জানুয়ারি নিজের চতুর্থ পরমাণু বোমার পরীক্ষা চালায় পিয়ংইয়ং। দেশটি বোমাটিকে ব্যাপক বিধ্বংসী হাইড্রোজেন বোমা বলে দাবি করেছে। এরপর গত ৬ ফেব্রুয়ারি দূরপাল্লার রকেট নিক্ষেপ করে দেশটি। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তর কোরিয়াকে ক্ষুদে পারমাণবিক বোমাসমৃদ্ধ ঘোষণাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স।
/এমপি/








