অভিনব পদ্ধতিতে রাজপরিবারের নতুন সদস্যকে স্বাগত জানিয়েছে ড্রাগন রাজার দেশ ভুটানের মানুষ। নাচগান করে কিংবা বাজি না পুড়িয়ে রাজপুত্রকে বরণ করে নিতে দেশজুড়ে এক লাখ ৮ হাজার বৃক্ষরোপণ করেছে তারা।
বৌদ্ধ ধর্মানুসারে গাছ মানুষের স্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, সুস্থতা ও সৌন্দর্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। রাজপুত্র যেন সবুজের মাঝে ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারেন তাই এই আয়োজন।
রাজপুত্রের জন্মের এক মাস পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। ক্ষমতাসীন ও বিরোধীদলীয় জোটসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়।
বৌদ্ধ ধর্মে ১০৮ সংখ্যাটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তারা এই সংখ্যাকে আত্মার পরিশোধক মনে করে। তাই ১,০৮,০০০ গাছ রোপণ করা হয়েছে।
৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখে রাজধানী থিম্পুর লিংকানা প্রাসাদে জন্ম হয় রাজপুত্রের। এক মাস পর গত ৬ মার্চ এ গাছগুলো লাগানো হয় বলে জানিয়েছে জি নিউজ।
ভুটানের ৮২,০০০ পরিবারের প্রত্যেকে একটি করে গাছ লাগিয়েছেন। বাকি ২৬ হাজার গাছ স্বেচ্ছাসেবকদের দ্বারা রোপণ করা হয়েছে।
গতবছর ভুটান মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে ৪৯ হাজার গাছের চারা রোপণ করে বিশ্বরেকর্ড করেছিল। এবার নিজেদের আগের রেকর্ডটি ভাঙল দেশটির মানুষ। ভুটানে বর্তমানে মোট ভূখণ্ডের ৬০ শতাংশই বনাঞ্চল।
উল্লেখ্য,ভুটানের বর্তমান রাজা ওয়াংচুক ভারত ও যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করেছেন। ২০০৬ সালে তিনি সিংহাসনে বসেন। ভুটানে গণতন্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন তিনি। ২০০৮ সালে ভুটানকে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র ঘোষণা করা হয়। রাষ্ট্রীয় কাজে রাজার ক্ষমতা একেবারে সীমিত করে আনেন ওয়াংচুক।
২০১১ সালে জেতসুন পেমার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক। তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল রূপকথার মতো জাকজমকপূর্ণ। মানুষের মুখে মুখে ছিল এ নিয়ে আলোচনা।
বিশ্বে সুখী দেশ হিসেবে পরিচিত ভুটান। এ ছাড়া দেশটির নাগরিকদের মাথাপিছু আয়ও তুলনামূলক ভালো। রাজনৈতিক অস্থিরতাও নেই বললেই চলে।
১৯৬০ সালে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ভুটান। ১৯৭৪ সালে দেশটিতে প্রথম দেশি ও বিদেশি গণমাধ্যমকে সংবাদ প্রচারের অনুমোদন দেওয়া হয়। ১৯৯৯ সালে প্রথম ইন্টারনেট ও টেলিভিশন কার্যক্রমের সূচনা হয়।
/এমপি/








