ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একজন সহকারীর গাজা সংক্রান্ত একটি গোপন নথি ফাঁসের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ এসেছে।ফলে ডেশটির রাজনৈতিক প্রাঙ্গণে সমালোচনার ঝড় উঠেছে ও হামাসের হাতে জিম্মিদের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।সোমবার (৪ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
রবিবার আদালতের রায়ে বলা হয়, ‘আইডিএফ (ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস) সিস্টেম থেকে গোপন ও সংবেদনশীল গোয়েন্দা তথ্য বেআইনিভাবে নেওয়া হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।’
সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে বিষয়টি নিয়ে এতোদিন বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে, ম্যাজিস্ট্রেটের এক রায়ের মাধ্যমে অর্ডারটির কিছু অংশ তুলে নেওয়া হয়। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে আদালতের পক্ষ থেকে এসব কথা বলা হয়।
আদালতের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, তথ্য ফাঁসের ফলে জিম্মিদের মুক্তির প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে।
নিজ অফিসের কর্মীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নেতানিয়াহু।শনিবার এক বিবৃতিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, গণমাধ্যমে কেবল তিনি ফাঁস হওয়া নথির বিষয়ে জানতে পেরেছেন।
চার সন্দেহভাজনের মধ্যে রয়েছেন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি ও তিনজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা।তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে রয়টার্স।
ইসরায়েলি পত্রিকা হারেৎজ দাবি করেছে, ৬ সেপ্টেম্বর প্রশ্নবিদ্ধ নথির বিষয়ে প্রথম প্রতিবেদন করে জার্মান বিল্ড পত্রিকা।ওই প্রতিবেদনে একচেটিয়াভাবে হামাসের আলোচনার কৌশল বর্ণনা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিসর একজোট হয়ে তখন ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছিল। আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল গাজায় আটক বন্দীদের মুক্তি।
কিন্তু ওই আলোচনা ব্যর্থ হয়। অচলাবস্থার জন্য ইসরায়েল ও হামাস একে অপরকে দোষারোপ করতে থাকে। হামাসের বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর অভিযোগের সঙ্গে মিল পাওয়া যায় ওই প্রতিবেদনে।
এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে রয়টার্সকে বিল্ড বলেছে, নিজেদের সূত্র সম্পর্কে কোনও তথ্য প্রকাশ করে না প্রতিষ্ঠানটি। তবে তাদের প্রতিবেদনের সত্যতা আইডিএফ নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে প্রবেশ করে হামলা চালায় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। ওই হামলায় তাদের অন্তত এক হাজার ২০০ নাগরিক নিহত ও ২৫০ জন হামাসের হাতে জিম্মি হয়েছে বলে ইসরায়েল দাবি করে আসছে।হামলার জবাবে ইসরায়েল সামরিক আগ্রাসন শুরু করলে তা গাজা যুদ্ধে রূপ নেয়। একবছরের বেশি সময় ধরে চলা আগ্রাসনে ৪৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।









