যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে ৮১ মিলিয়ন ডলার পাচার হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার আগেই চীনা বংশোদ্ভূত এক সন্দেহভাজন ফিলিপাইন ছেড়ে পালিয়ে যান বলে খবর প্রকাশিত হয়। সেই সন্দেহভাজন কাম সিন অং ওরফে কিম অং ফোন করে ফিলিপাইনের সংবাদমাধ্যম ইনকোয়ারারকে জানিয়েছেন, তিনি সিনেট তদন্ত দলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। ইনকোয়ারারের কাছে তিনি স্বীকার করেছেন, ঘটনার ৫ সন্দেহভাজনের একজন তার দশ বছরের বন্ধু। তবে তার বিরুদ্ধে দিগুইতোর করা অন্যসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
অং জানান, তিনি এতোদিন স্বাস্থ্য বিষয়ক পরীক্ষার জন্য সিঙ্গাপুরে ছিলেন। রবিবার বিকেল ৪টায় ফিলিপাইন এয়ারলাইন্সের পিআর৫১০ বিমানে তিনি ফিলিপাইনে পৌঁছেছেন। আর চলতি মাসের ২৯ তারিখ সকাল ১১টায় সিনেট তদন্ত দলের সামনে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন।
অং বলেন, ‘আমি সবকিছুই বলব। কিছুই গোপন করব না।’ তিনি স্বীকার করেন, গো তার বন্ধু, প্রায় ১০ বছর ধরে তাদের পরিচয় রয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) জুপিটার ব্রাঞ্চের ম্যানেজার মাইয়া সান্তোস দিগুইতোর অন্যসব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। দিগুইতোর অভিযোগ, পাঁচ সন্দেহভাজন মাইকেল ফ্রান্সিসকো ক্রুজ, জেসি ক্রিস্টোফার লাগরোসাস, এনরিকো তেওদোরো ভাসকুয়েজ, আলফ্রেড সান্তোস ভারগারা এবং উইলিয়াম সো গোর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সময়ে তিনি ব্যাংক ম্যানেজারের সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।
অং জানান, সোলেয়ার ক্যাসিনোর অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া ১.৩৭৪ বিলিয়ন পেসো (ফিলিপাইনের মুদ্রা), যা বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলারের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে, তা অং-কে তার এক চীনা জুয়ারি গ্রাহক দিয়েছিলেন। ইস্টার্ন হাওয়ায় লিজার কোম্পানি লিমিটেডে যাওয়া ১ বিলিয়ন পেসো তিনি মাইডাস ক্যাসিনোতে জিতেছিলেন বলে জানান তিনি।
ফিলিপাইনে প্রবেশ করতে অং একাধিক পাসপোর্ট ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সম্পর্কে তিনি দাবি করেন, তার কাছে ভানুয়াতু প্রজাতন্ত্র, চীন এবং তাইওয়ানের পাসপোর্ট রয়েছে। তিনি বলেন, ‘সব পাসপোর্টে আমার নাম একই, কিম অং। আমি যদি অপরাধী হতাম, তাহলে প্রতিটা পাসপোর্টে ভিন্ন নাম থাকতো।’
ফিলিপাইনের মানি লন্ডারিং নিয়ন্ত্রক সংস্থা অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং কাউন্সিল অপর চীনা ব্যবসায়ী জু ওয়েইকাং এবং কিম অং-এর বিরুদ্ধে একই অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওই অ্যাকাউন্টগুলোতে আর কোনও লেনদেন হয়নি। ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাকড করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকাররা ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ চুরি করে ওই অ্যাকাউন্টগুলোতে স্থানান্তর করে। সেখান থেকে ওই অর্থ ফিলিপিনো পেসোতে রূপান্তরের পর দুটি ক্যাসিনোতে পাঠানো হয়। সূত্র: ইনকোয়ারার।
/এসএ/বিএ/








