নাইজেরিয়ায় কৃষকদের ওপর পশুপালকদের হামলার অভিযোগ, নিহত ৪২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ মে ২০২৫, ১০:২৭আপডেট : ২৮ মে ২০২৫, ১০:২৭

নাইজেরিয়ায় চারটি গ্রামে বহিরাগতদের হামলায় অন্তত ৪২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। গ্রামীণ কৃষকদের ওপর ওই হামলাগুলোর জন্য অভিযোগের তীর ছোঁড়া হয়েছে যাযাবর পশুপালকদের দিকে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।

স্থানীয় কর্মকর্তা ভিক্টর ওমনিনের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, শনিবার (২৪ মে) তিয়োলাহা এবং সে-উবিয়াম গ্রামে হামলায় ১০ জন নিহত হয়েছেন। এরপর দিন নিকটবর্তী আহুমে এবং আওনদোনা গ্রামে পৃথক হামলায় ৩২ জন প্রাণ হারান।

তবে নিহতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ওমনিন। মঙ্গলবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, অবস্থা খুবই শোচনীয়। আপনাদের সঙ্গে কথা বলার সময়ও আমরা মরদেহ উদ্ধার করছি।

রয়টার্স জানায়, হামলার সময় এক ক্যাথলিক পুরোহিতকে গুলি করে আহত করা হয়। বেনুয়ে রাজ্যের গভর্নর হায়াসিন্থ ইরমেম আলিয়ার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, ওই পুরোহিতের আঘাত গুরুতর হলেও স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন।

হামলার ভয়াবহতা বর্ণনা করতে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, তারা দুই বছর বয়সী শিশুকেও হত্যা করেছে।

নাইজেরিয়ার মধ্য ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ফুলানি গোত্রের যাযাবর পশুপালক ও স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে সহিংসতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। খোলা চারণভূমি থেকে পশুর পাল কৃষিজমিতে ঢুকে পড়া থেকে সাধারণত বিরোধের শুরু হয়।

তবে অনেক কৃষক অভিযোগ করেছেন, পশুপালকরাই আগ বাড়িয়ে হামলা চালায়। আত্মরক্ষার জন্য তখন কৃষকরা সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা প্রতিহত করেন।

অনেক বিশ্লেষক বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধির কারণে কৃষিজমি হ্রাস পাচ্ছে, যার কারণে এসব গোষ্ঠীগত সংঘাত হয়ে থাকে। তবে গ্রামবাসীরা বলেন, এই সংঘর্ষের নেপথ্যে রয়েছে মূলত জমি দখল এবং জাতিগত নির্মূল।

নেক্সটিয়ার নাইজেরিয়া ভায়োলেন্ট কনফ্লিক্টস ডাটাবেজ অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত, দেশজুড়ে কৃষক এবং পশুপালকদের মধ্যে ৩৫৯টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে মোট দুই হাজার৩৪৭ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে বাস্তবে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে, কারণ অনেক ঘটনা সঠিকভাবে রেকর্ড করা হয় না।

এই সহিংসতা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিভাজন সৃষ্টি করছে। সাধারণত মুসলিম পশু পালক ও খ্রিষ্টান কৃষকদের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব হয়ে থাকে। চলতি বছরের ইস্টার সময়েও বেনুয়ে রাজ্যে ৫৬ জন নিহত হন যাযাবর পালকদের হাতে।

দীর্ঘদিনের সহিংসতায় অর্থনৈতিকভাবেও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নাইজেরিয়া। এই হামলাগুলো সবচেয়ে বেশি ঘটে থাকে দেশটির কৃষিপ্রধান বেনুয়ে রাজ্যে, যা দেশটির রুটির ঝুড়ি নামে পরিচিত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় ২০১৭ সালে রাজ্য সরকার খোলা চারণ নিষিদ্ধ করে এবং খামার স্থাপনের আইন পাস করে। কিন্তু স্থানীয়রা বলছেন, আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হয়নি।

বেনুয়ের আইনপ্রণেতা আসেমা আশাদো এক বিবৃতিতে বলেছেন, দীর্ঘদিনের এই সহিংসতা যে কোনও মূল্যে বন্ধ করতে হবে। আমাদের কৃষকরাই জাতির মেরুদণ্ড অথচ তারা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে দিন কাটান।

/এসকে/
সম্পর্কিত
এক দিনেই ৭০০ তিমি ও ডলফিন হত্যা
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কিমের বড় ঘোষণা
বজ্রনিনাদে ভারতে বর্ষার প্রবেশ, কেরালাজুড়ে হচ্ছে ভারি বৃষ্টি
সর্বশেষ খবর
এক দিনেই ৭০০ তিমি ও ডলফিন হত্যা
এক দিনেই ৭০০ তিমি ও ডলফিন হত্যা
দিল্লীতে আগুনে ৮ বাংলাদেশি আহত, গুরুতর অবস্থা তিন জনের
দিল্লীতে আগুনে ৮ বাংলাদেশি আহত, গুরুতর অবস্থা তিন জনের
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান