যুক্তরাজ্যে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনন গ্রুপের কর্মীরা। ফলে ব্রিটিশ বিচারব্যবস্থা এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছে।
রবিবার (১৭ আগস্ট) ব্রিটেনের একাধিক স্থানে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়েছে। লন্ডনে পার্ক লেনের কাছাকাছি একটি পদযাত্রার আয়োজন করেছে হুসাইনি ইসলামিক ট্রাস্ট ইউকে। একই সময়ে, ফ্রেন্ডস অফ আল-আকসা নামের আরেকটি সংগঠন ব্ল্যাকবার্নে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
প্রথম থেকেই আন্দোলন কঠোর হাতে দমন করে আসছে ব্রিটিশ সরকার। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে শত শত মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দেশটির কারাগারগুলো ধারণক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে।
বিক্ষোভ-সংক্রান্ত মামলার চাপ, সেই সঙ্গে বিচারাধীন মামলার দীর্ঘ তালিকা এবং বিচারকের ঘাটতি—সব মিলিয়ে দেশটির বিচারব্যবস্থা এক কঠিন সংকটের মুখে পড়েছে।
দেশটির জাতিগত সমতা ও মানবাধিকার কমিশন (ইএইচআরসি) সতর্ক করে বলেছে, গাজা সম্পর্কিত বিক্ষোভ দমনে কঠোর পন্থা অবলম্বন করলে তা জনগণের আস্থা নষ্ট করতে পারে। এছাড়া, ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পন্থায়ও ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
ব্রিটিশ সরকারের কঠোরতার সমালোচনা করে জাতিসংঘের একজন বিশেষ প্রতিবেদক মন্তব্য করেছেন, পুরো বিষয়টিকে নাগরিক স্বাধীনতার ওপর বিপজ্জনক পরিবর্তনের দিকে মোড় নিতে পারে।
চলমান ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভগুলোতে ব্রিটেনের মুসলিম সম্প্রদায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন এবং মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন অব ব্রিটেনের মতো সংগঠনগুলো বড় ধরনের বিক্ষোভ আয়োজনে নেতৃত্ব দিচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবিতে সোচ্চার এই সংগঠনগুলো।
যদিও ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনে ইহুদি গণহত্যা-বিরোধী গোষ্ঠী, শিক্ষাবিদ এবং মানবাধিকার সংস্থাসহ বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর মানুষের সমর্থন রয়েছে, তবে ব্রিটিশ মুসলিম সম্প্রদায় নিয়মিতভাবে এসব বিক্ষোভে সমর্থন ও অংশগ্রহণ করছে।









