মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ফেডারেল রিজার্ভ বা ফেড) গভর্নর লিসা কুককে বরখাস্তের আদেশ দিয়েছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ওই ঘোষণার পরদিন মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) কুকের আইনজীবী বলেন, ট্রাম্পের ইস্যু করা বরখাস্ত আদেশের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামবেন তারা। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
কুকের হয়ে মাঠে নামছেন ওয়াশিংটনের প্রখ্যাত আইনজীবী অ্যাবি লোয়েল। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, কোনও বাস্তবসম্মত বা আইনি ভিত্তিহীন একটি রেফারেল চিঠি দিয়ে কুককে বরখাস্তের আদেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। আমরা এই অবৈধ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করব।
কুক-ট্রাম্প বিরোধকে ঘিরে মার্কিন মুদ্রানীতিতে হোয়াইট হাউজের প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি এক আইনি টানাপড়েন সৃষ্টি হতে পারে।
সোমবার এক চিঠিতে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, কুক ২০২১ সালে মিশিগান ও জর্জিয়ার দুটি আলাদা সম্পত্তিকে বন্ধকি নথিতে প্রাথমিক বাসভবন হিসেবে দেখিয়েছেন, যা তার মতে ‘প্রতারক ও সম্ভাব্য অপরাধমূলক আচরণ’। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১১১ বছরের ইতিহাসে কোনও গভর্নরকে এভাবে সরানোর প্রচেষ্টা নজিরবিহীন।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, আমরা সেসব মানুষকে চাই, যারা পুরোপুরি আমাদের সঙ্গে আছেন। কিন্তু তাকে সেরকম মনে হয়নি। কুকের বদলি হিসেবে কয়েকজন যোগ্য লোকের নাম তার মাথায় আছে তবে আমি আদালতের যে কোনও সিদ্ধান্ত মেনে চলব।
ফেডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থে বোর্ড সদস্যদের ১৪ বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয় এবং সহজে সরানো যায় না। ট্রাম্প যদিও বলেছেন, কুককে বরখাস্ত আদেশ ‘তাৎক্ষণিকভাবে’ কার্যকর হবে, ফেডের ভাষ্য অনুযায়ী তিনি এখনও কার্যত দায়িত্বে আছেন এবং আগামী ১৬-১৭ সেপ্টেম্বরের সুদের হার নির্ধারণী বৈঠকে অংশ নেবেন। অবশ্য আদালত ভিন্ন কোনও রায় দিলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে বলেও জানানো হয়।
মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড সদস্যরা একরমক স্বাধীন হলেও ট্রাম্প সেখানেও তার স্বভাবসুলভ ক্ষমতা প্রয়োগের চর্চা থেকে বিরত থাকেননি। হোয়াইট হাউজের মসনদে দ্বিতীয়বার ফেরার পর জানুয়ারি থেকে ট্রাম্প প্রশাসন সরকারি বিভিন্ন সংস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে, বিপুল সংখ্যক সরকারি কর্মচারীকে সরিয়েছে এবং কংগ্রেস অনুমোদিত ব্যয় আটকে দিয়েছে। কুকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপটিকে এরই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কুক ২০২২ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নিং বডিতে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী সদস্য। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প আরও কয়েকজন কৃষ্ণাঙ্গ নারী কর্মকর্তাকে সরিয়েছেন, যার মধ্যে আছেন লাইব্রেরি অব কংগ্রেসের প্রধান ও ন্যাশনাল লেবার রিলেশনস বোর্ডের চেয়ারম্যান।
কুককে সরাতে পারলে ট্রাম্প ফেড বোর্ডে নিজের মনোনীত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারবেন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আছেন হোয়াইট হাউজের অর্থনীতিবিদ স্টিফেন মিরান ও সাবেক বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস।








