অস্ট্রেলিয়ার একটি ডে-কেয়ার সেন্টার (শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র) থেকে নাতি মনে করে ভুল শিশুকে বাড়ি নিয়ে গেছেন এক বৃদ্ধ। পরে ওই শিশুর মা বিষয়টি টের পেলে তুলকালাম শুরু হয়।
ফার্স্ট স্টেপস লার্নিং অ্যাকাডেমি নামের ওই ডে-কেয়ার সেন্টারটি সিডনির দক্ষিণাঞ্চলীয় বাংগোর শহরতলিতে অবস্থিত। গত সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) নিজের নাতিকে নিতে সেখানে যান ওই বৃদ্ধ। তবে অন্ধকারাচ্ছন্ন এক ঘরে ঘুমিয়ে থাকা একবছর বয়সী অন্য শিশুকে নাতি ভেবে বগলদাবা করে বাড়ি নিয়ে যান।
পরে ওই শিশুর মা তাকে নিতে এলে বিষয়টি সবার নজরে আসে। সিডনি মর্নিং হেরাল্ডকে ওই নারী বলেন, ওই অনুভূতি বলে বোঝানো সম্ভব নয়। কর্তৃপক্ষ ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় কিছুই আমাকে জানাতে পারেনি। কেবল বলে, হাফপ্যান্ট পড়া এক বৃদ্ধ ভদ্রলোক আমার বাচ্চাকে নিয়ে গেছেন।
প্রতিবেদনে সংগত কারণে কারও নাম প্রকাশ করা হয়নি।
তবে বৃদ্ধের কোনও বিষোদ্গার করেননি ওই মা। তিনি বলেন, এখানে ওই ভদ্রলোকের আমি কোনও দোষ দেখি না। পুরো ঘটনার দায় এখানে ডে-কেয়ার সেন্টারের।
নিরাপত্তা প্রটোকল অনুযায়ী, ডে-কেয়ার সেন্টারে নিবন্ধিত বা পরিচিত অভিভাবক ছাড়া কেউ শিশুকে নিয়ে যেতে পারেন না। ওই ঘটনার কারণে সে সময় দায়িত্বরত কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানায় ফার্স্ট স্টেপস লার্নিং কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, ভুল শিশুকে বাড়ি নিয়ে গেছেন বোঝার পর হতভম্ব হয়ে পড়েন ওই বৃদ্ধ। তার স্ত্রী সিডনি মর্নিং হেরাল্ডকে জানিয়েছে, ভুল বোঝার পর শিশুটিকে তিনি তড়িঘড়ি ফেরত দিতে ছুটে যান। তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন। ওই ঘটনায় তিনি ভীষণভাবে মর্মাহত।
ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ডে-কেয়ারের পরিচালক ট্রিশা হাস্টি বলেছেন, এই বিচ্ছিন্ন কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট সবার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমাদের এখানে এমন ঘটনা আগে ঘটেনি। ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আমরা আরও সচেতন থাকব।
এই ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানায় নিউ সাউথ ওয়েলস আর্লি চাইল্ডহুড কেয়ার রেগুলেটরি অথরিটি।
ঘটনাটি এমন সময় ঘটল, যখন অস্ট্রেলিয়ার ডে-কেয়ার সেন্টারগুলোতে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে। গত মাসেই এই খাতে নিরাপত্তার মান উন্নত করার জন্য নতুন আইনগত পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি








