নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী কোনও ব্যক্তি বা সংস্থা চাইলে তাদের প্রাপ্ত স্বর্ণপদক অন্য কাউকে দিয়ে দিতে পারেন, তবে ইতিহাসের পাতায় পুরস্কারটি চিরকাল সংশ্লিষ্ট বিজয়ীর নামের সঙ্গেই অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত থাকবে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো তার পদকটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উপহার দেওয়ার পর শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি।
বৃহস্পতিবার মাচাদো তার প্রাপ্ত পদকটি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তুলে দেন। এর পর হোয়াইট হাউজ থেকে ট্রাম্প ও মাচাদোর একটি ছবি প্রকাশ করা হয়, যেখানে ট্রাম্পকে একটি সোনালি ফ্রেমে বাঁধানো পদকটি উঁচিয়ে ধরতে দেখা যায়। ট্রাম্প এই উপহারের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট এটি নিজের কাছেই রাখার ইচ্ছা পোষণ করেছেন।
পদক হাতবদল হলেও ইতিহাস বদলায় না
মাচাদোর এই পুরস্কারের মধ্যে পদক ছাড়াও ছিল একটি ডিপ্লোমা এবং ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার (প্রায় ১১ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার)। এ বিষয়ে নোবেল কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পদক, ডিপ্লোমা বা পুরস্কারের অর্থের যা-ই ঘটুক না কেন, ইতিহাসের পাতায় মূল বিজয়ীই পুরস্কারের প্রাপক হিসেবে আজীবন লিপিবদ্ধ থাকবেন।
কমিটি আরও স্পষ্ট করেছে যে, নোবেল ফাউন্ডেশনের সংবিধানে কোনও বিজয়ী তার পদক, ডিপ্লোমা বা পুরস্কারের অর্থ দিয়ে কী করবেন, সে বিষয়ে কোনও বিধিনিষেধ নেই। অর্থাৎ, একজন বিজয়ী চাইলে এগুলো নিজের কাছে রাখতে পারেন, কাউকে উপহার দিতে পারেন, বিক্রি করতে পারেন অথবা দানও করতে পারেন।
অবিচ্ছেদ্য সম্মান
পাঁচ সদস্যের এই পুরস্কার কমিটি জানায়, পদক এবং ডিপ্লোমা হলো সম্মাননা প্রাপ্তির ভৌত প্রতীক। কিন্তু পুরস্কারটির সম্মান এবং স্বীকৃতি নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তি বা সংস্থার সঙ্গেই অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত থাকে।
বিবৃতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বা মারিয়া মাচাদোর নাম উল্লেখ না করে কমিটি বলেছে, পুরস্কার ঘোষণার পর কোনও বিজয়ীর বক্তব্য, সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ডের ওপর তারা কোনও মন্তব্য করে না।
পদক হস্তান্তরের আগের উদাহরণ
নোবেল বিজয়ীর পদক অন্যকে দিয়ে দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ইতিহাসে এর আগেও এমন উদাহরণ রয়েছে।
১৯৪৩ সালে সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী নুট হ্যামসুন তার পদকটি নাৎসি প্রচারমন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলসকে দিয়ে দিয়েছিলেন। ২০২২ সালে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী দিমিত্রি মুরাতভ ইউক্রেনীয় শরণার্থী শিশুদের সহায়তায় ইউনিসেফের জন্য তহবিল সংগ্রহ করতে তার পদকটি ১০ কোটি ডলারে বিক্রি করেন। ২০২৪ সালে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের স্ত্রী তার স্বামীর ২০০১ সালে পাওয়া নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক এবং ডিপ্লোমাটি জেনেভায় জাতিসংঘের কার্যালয়ে দান করেন।
নিয়ম অনুযায়ী, বিজয়ী পদক হস্তান্তর করলেও নোবেল তালিকার দাপ্তরিক রেকর্ডে মারিয়া করিনা মাচাদোর নামই বিজয়ী হিসেবে অক্ষুণ্ণ থাকবে।
সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত ও স্থায়ী
নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউট জানিয়েছিল যে, নোবেল শান্তি পুরস্কার হস্তান্তর, অংশীদারত্ব বা বাতিল করার কোনও সুযোগ নেই। এক বিবৃতিতে ইনস্টিটিউটটি জানায়, নোবেল ফাউন্ডেশনের সংবিধানে আপিলের কোনও বিধান না থাকায় পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত ও স্থায়ী।
নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এবং নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউট শুক্রবার বলেছে, একবার নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হলে তা বাতিল করা, ভাগ করা বা অন্য কারো কাছে হস্তান্তর করা যায় না। এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং চিরন্তন।









